শিল্পী-মন, সৃষ্টি-চেষ্টা, বারান্দা, ও ছাদ

তখন ১৯৭২, স্থান রাইফেল ক্লাব ওয়েস্ট, বাঁশদ্রোনী ।

এই সিড়িটা উঠে গিয়েছে এক মন ভোলানো ছাদে, যেখানে ভালোবাসার ব্যথায় বহু চোখ উদাস চোখে আকাশ দেখেছে, কখনও বা বেশ কিছু মানুষ নানা রঙ সুর আর ভালোবাসা মেলানো সৃষ্টিতে মশগুল হয়েছে, কখনও বা কোনও রাগী মন ইঁট-বালিশে শুয়ে রাগ প্রকাশ করেছে – আরও কত জানা-অজানা ভাবের সাক্ষী ওই ছাদ|

মনে পড়ে, গৌরী প্রসন্ন বা শক্তি ঠাকুর, বা শিল্প-ভাবনায় ডুবে থাকা অন্য বহু মন ওই তার-কাঁটা ঘেরা পরিসরে মন উজাড় করে শিল্প সৃষ্টি করেছে| কখনও গান, কখনও কবিতা, কখনও তবলা, বা কখনও নাটক নিচের ঘেরা বারান্দা থেকে ওপরের ছাদ সব মিলিয়ে স্বচ্ছন্দে ছোটাছুটি করে বেড়িয়েছে|

ছোড়দির উঠল বাই কটক যাই স্টাইলে হঠাৎ হঠাৎ সৃষ্টি, মনের খুশিতে গান গাওয়া, কবিতা লেখা, আর অনুষ্ঠানের আয়োজন| সেই অনুষ্ঠানে বাড়ীর মানুষ, প্রতিবেশী শিল্পী আর নাম করা শিল্পীরাও মহা আনন্দে স্বতস্ফূর্ত যোগ দিতেন|   

বড় জ্যাঠার শৈল্পিক মন এতই বিস্তৃত – এত রকমারী – তা ধরে বুঝে নেওয়া কঠিন| গান – সাহিত্য – পাক-কলা, ওঁর অভিব্যক্তির ঢং – শৈলী এসব নিয়ে বলা শুরু করলে কোথায় ঠেকবে জানিনা| ওঁকে নিয়ে কখনও আলাদা করে গল্প বলার ইচ্ছে রইল| মেজদি আবার চুটিয়ে ছবি আঁকত – কবিতাও লিখত|  কিটুর প্রচণ্ড আবেগ, প্রচণ্ড চেষ্টা, ক্ষুরধার বুদ্ধি – সে তো দিনে 11 ঘণ্টা 21 দিন তবলা রিয়াজ করবে প্রতিজ্ঞা করে বাজনা শুরু হল| তার পর হাত ফেটে রক্ত – তারপরও ব্যানডেজ বেঁধে প্রতিজ্ঞা পুরো করা| এই তীব্র ইচ্ছে আর চেষ্টা ওই পরিসরেই জন্ম নিয়েছে – প্রকাশিত হয়েছে| আমিও সেতার বগলে কখনও হাজির হয়ে যেতাম আনন্দে ভাসতে|    

মনে পড়ে ঠাকুর ঘরের খাটে বসে দিদিনের গানের রেয়াজ সাথে সমীর মজুমদারের গম্ভীর ঠেকা আর বিলম্বিত একতালের আবর্তনের স্নিগ্ধ অনুভূতি। দরজা পেরিয়ে বারান্দা, সেখানে ইজি চেয়ারে চোখ বন্ধ করে জ্যাঠার গান শোনা।

সেজদির মজা নেওয়াটা অন্যরকম  ছিল। সে অন্যের সৃষ্টিতে মশগুল। মাঝের ঘরের খাটে প্রায়ই সেজদিকে দেখা যেত। কখনও বসে, কখনও শুয়ে, বইয়ের নিচে বই গুঁজে চুপি চুপি উল্টোরথ পড়া, কখনও মলাট-খোলা শরৎচন্দ্র, শঙ্কর, সমরেশ বসু, বা প্রবোধ সান্যাল| কম বয়সের অহেতুক বাঁধনের বেড়া ও বুদ্ধি করে বাঁধন এড়ানোর মজা, বুঝে বা না-বুঝে সেজদির অনুভূতির ব্যাঙ্কে জমা হতেই থাকত|      

         

Reflections on Raga Music Therapy: A 2020 Perspective

Bengali Translation ———– Hindi Translation

This archival video documents my Bengali presentation delivered in 2020 during the height of the Covid-19 pandemic, a period when people across the world were searching for emotional reassurance, mental balance, and meaningful human connection.

The reason for my talk was my younger brother Ritwik Banerjee. Ritwik in those days was running an online cultural movement under the banner ‘Naad’ within the India – Bangladesh periphery. The activities successfully generated good interest and could nicely involved some thinkers, musicians and artists from the two countries.

In this talk, I attempted to reflect on the possible therapeutic dimensions of Indian Raga Music with caution, honesty, and intellectual responsibility, avoiding exaggerated conclusions that were not yet supported by adequate evidence or systematic study.

The discussion in this presentation also briefly traces the broader historical evolution of Music Therapy as a field of inquiry. Particular attention is given to the period surrounding World War II, when music began receiving more systematic attention within hospitals and rehabilitation environments, especially in relation to the psychological and emotional recovery of wounded soldiers. The presentation further reflects on how, over the decades, developments in neuroscience and medical imaging gradually opened new pathways for understanding the relationship between sound, emotion, cognition, and human wellbeing. In recent years, technologies such as functional Magnetic Resonance Imaging (fMRI) have enabled researchers to observe how different regions of the brain respond during musical engagement, offering more measurable insights into areas that earlier generations could only intuit through observation and experience.

Looking back today, the video also stands as a reflection of an extraordinary historical moment. The pandemic created conditions where music was not merely entertainment for many people, but a source of emotional anchorage and introspection. Like the gradual unfolding of a rāga, understanding in this area continues to evolve through observation, dialogue, experimentation, and deeper interdisciplinary research.

I hope this presentation may remain relevant for musicians, music therapists, researchers, students, and thoughtful listeners interested in the meeting ground between tradition, healing, artistic perception, and scientific curiosity.

The original Bengali presentation may be viewed on YouTube.

বাংলা অনুবাদ

রাগসংগীত ও মিউজিক থেরাপি বিষয়ে কিছু ভাবনা: ২০২০ সালের একটি দৃষ্টিভঙ্গি

এই আর্কাইভাল ভিডিওটিতে ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির তীব্র সময়ে প্রদত্ত আমার একটি বাংলা বক্তৃতা সংরক্ষিত হয়েছে। সেই সময় পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষ মানসিক স্থিতি, আবেগগত আশ্বাস এবং অর্থপূর্ণ মানবিক সংযোগের সন্ধান করছিলেন।

এই আলোচনার পেছনে প্রধান অনুপ্রেরণা ছিল আমার ছোট ভাই ঋত্বিক বন্দ্যোপাধ্যায়। সে সময় ঋত্বিক ‘নাদ’ নামের একটি অনলাইন সাংস্কৃতিক গতিবিধি ভারত–বাংলাদেশ পরিসরে পরিচালনা করছিল। এই উদ্যোগটি দুই দেশের বহু চিন্তাশীল মানুষ, সংগীতশিল্পী ও শিল্পীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে এক আন্তঃসাংস্কৃতিক বৌদ্ধিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল।

এই বক্তৃতায় আমি ভারতীয় রাগসংগীতের সম্ভাব্য থেরাপিউটিক দিকগুলি নিয়ে সতর্কতা, সততা এবং বৌদ্ধিক দায়িত্ববোধের সঙ্গে কিছু ভাবনার অবতারণা করার চেষ্টা করেছি। পর্যাপ্ত প্রমাণ বা সুসংহত গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত নয়—এমন অতিরঞ্জিত সিদ্ধান্ত থেকে সচেতনভাবেই দূরে থাকার প্রয়াস ছিল এখানে।

এই আলোচনায় মিউজিক থেরাপির ইতিহাসগত বিকাশ সম্পর্কেও সংক্ষিপ্তভাবে আলোকপাত করা হয়েছে। বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এবং তার পরবর্তী পর্বে, যখন আহত সৈনিকদের মানসিক ও আবেগগত পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে সংগীতকে আরও সুসংগঠিতভাবে ব্যবহার করা শুরু হয়, সেই প্রসঙ্গ এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, গত কয়েক দশকে স্নায়ুবিজ্ঞান ও মেডিক্যাল ইমেজিং প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে কীভাবে সংগীত, আবেগ, জ্ঞানীয় প্রক্রিয়া এবং মানবকল্যাণের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, সে বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে Functional Magnetic Resonance Imaging (fMRI)-এর মতো প্রযুক্তি গবেষকদের মানবমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ সংগীতের সঙ্গে কীভাবে সাড়া দেয় তা পর্যবেক্ষণের সুযোগ করে দিয়েছে। এর ফলে পূর্বতন প্রজন্ম যেখানে মূলত অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভর করত, সেখানে আজ তুলনামূলকভাবে পরিমাপযোগ্য কিছু তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

বক্তৃতায় উনবিংশ শতকের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক উল্লেখও রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী The Lancet ১৮৯১ সালেই সংগীত ও মানবস্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা প্রকাশ করেছিল। এই ধরনের উল্লেখ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সংগীতের সম্ভাব্য চিকিৎসাগত প্রভাব নিয়ে মানুষের আগ্রহ একেবারে নতুন নয়। বরং দর্শনভিত্তিক চিন্তা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং শিল্পচর্চার আন্তঃবিষয়ক গবেষণার মধ্য দিয়ে এই অনুসন্ধান ক্রমাগত বিবর্তিত হয়েছে। এই পরিবর্তনশীল গবেষণাক্ষেত্রে ভারতীয় রাগসংগীতও গভীর ও চিন্তাশীল অনুসন্ধানের দাবি রাখে, যদিও এখনও বহু ক্ষেত্রে আরও কঠোর, সুসংবেদনশীল এবং সাংস্কৃতিকভাবে প্রাসঙ্গিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

আজ ফিরে তাকালে এই ভিডিওটি এক অসাধারণ ঐতিহাসিক সময়ের দলিল হিসেবেও প্রতিভাত হয়। মহামারির সেই সময় সংগীত বহু মানুষের কাছে কেবল বিনোদন ছিল না; বরং মানসিক আশ্রয়, আত্মসমীক্ষা এবং অন্তর্গত স্থিতির এক গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছিল। একটি রাগ যেমন ধীরে ধীরে নিজস্ব স্বরলোক উন্মোচন করে, তেমনই এই ক্ষেত্র সম্পর্কিত আমাদের বোধও পর্যবেক্ষণ, সংলাপ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং আন্তঃবিষয়ক গবেষণার মাধ্যমে ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে।

আমার আশা, এই বক্তৃতাটি সংগীতশিল্পী, মিউজিক থেরাপিস্ট, গবেষক, ছাত্রছাত্রী এবং ঐতিহ্য, আরোগ্য, শিল্পবোধ ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের মিলনভূমিতে আগ্রহী চিন্তাশীল শ্রোতাদের কাছে এখনও কিছুটা প্রাসঙ্গিকতা বহন করবে।

মূল বাংলা বক্তৃতাটি YouTube-এ দেখা যেতে পারে।


हिंदी अनुवाद

संगीत और म्यूज़िक थेरपी पर कुछ विचार: 2020 का एक दृष्टिकोण

यह आर्काइवल वीडियो 2020 में कोविड-19 महामारी के चरम समय के दौरान प्रस्तुत मेरे एक बंगाली व्याख्यान का दस्तावेज़ है। उस समय विश्वभर के लोग मानसिक संतुलन, भावनात्मक आश्वासन और सार्थक मानवीय संबंधों की खोज में थे।

इस व्याख्यान के पीछे मुख्य प्रेरणा मेरे छोटे भाई ऋत्विक बनर्जी थे। उन दिनों ऋत्विक ‘नाद’ नामक एक ऑनलाइन सांस्कृतिक गतिविधि भारत–बांग्लादेश परिप्रेक्ष्य में संचालित कर रहे थे। इस पहल ने दोनों देशों के अनेक विचारकों, संगीतज्ञों और कलाकारों को एक साझा सांस्कृतिक एवं बौद्धिक मंच पर जोड़ने में उल्लेखनीय सफलता प्राप्त की थी।

इस व्याख्यान में मैंने भारतीय राग संगीत के संभावित चिकित्सात्मक आयामों पर सावधानी, ईमानदारी और बौद्धिक जिम्मेदारी के साथ विचार करने का प्रयास किया है। जिन निष्कर्षों को उस समय पर्याप्त प्रमाण या व्यवस्थित शोध का समर्थन प्राप्त नहीं था, उनसे जानबूझकर दूरी बनाए रखने का प्रयास किया गया।

इस प्रस्तुति में म्यूज़िक थेरपी के ऐतिहासिक विकास पर भी संक्षेप में चर्चा की गई है। विशेष रूप से द्वितीय विश्वयुद्ध के आसपास के समय का उल्लेख किया गया है, जब घायल सैनिकों के मानसिक और भावनात्मक पुनर्वास के संदर्भ में अस्पतालों और पुनर्वास केंद्रों में संगीत को अधिक व्यवस्थित रूप से उपयोग किया जाने लगा। साथ ही, पिछले कुछ दशकों में न्यूरोसाइंस और मेडिकल इमेजिंग तकनीकों के विकास ने संगीत, भावना, संज्ञान और मानवीय कल्याण के संबंध को समझने के लिए नए मार्ग खोले हैं। हाल के वर्षों में Functional Magnetic Resonance Imaging (fMRI) जैसी तकनीकों ने शोधकर्ताओं को यह देखने की सुविधा दी है कि संगीत के दौरान मानव मस्तिष्क के विभिन्न भाग किस प्रकार प्रतिक्रिया करते हैं। इससे उन क्षेत्रों में भी अपेक्षाकृत मापनीय जानकारी उपलब्ध होने लगी है, जिन्हें पहले केवल अनुभव और अवलोकन के माध्यम से समझा जाता था।

इस व्याख्यान में उन्नीसवीं शताब्दी का एक महत्वपूर्ण ऐतिहासिक संदर्भ भी उल्लेखित है। अंतरराष्ट्रीय स्तर पर प्रभावशाली चिकित्सा पत्रिका The Lancet ने 1891 में ही संगीत और मानव स्वास्थ्य के संबंध में चर्चाएँ प्रकाशित की थीं। ऐसे संदर्भ हमें यह स्मरण कराते हैं कि संगीत के चिकित्सात्मक प्रभाव को लेकर जिज्ञासा कोई नई बात नहीं है। यह विचार दार्शनिक चिंतन और अनुभवजन्य अवलोकन से आगे बढ़कर आज न्यूरोसाइंस, मनोविज्ञान, चिकित्सा विज्ञान और कलात्मक अभ्यासों से जुड़े अंतर्विषयक शोध का हिस्सा बन चुका है। इस विकसित होते विमर्श में भारतीय राग संगीत भी गंभीर और संवेदनशील अध्ययन की माँग करता है, यद्यपि अभी भी अनेक क्षेत्रों में कठोर और सांस्कृतिक रूप से संवेदनशील शोध की आवश्यकता बनी हुई है।

आज पीछे मुड़कर देखने पर यह वीडियो एक असाधारण ऐतिहासिक क्षण का दस्तावेज़ भी प्रतीत होता है। महामारी के दौरान संगीत अनेक लोगों के लिए केवल मनोरंजन नहीं था, बल्कि भावनात्मक सहारा, आत्मचिंतन और आंतरिक स्थिरता का माध्यम बन गया था। जैसे एक राग धीरे-धीरे अपने स्वर-जगत का विस्तार करता है, वैसे ही इस विषय के प्रति हमारी समझ भी अवलोकन, संवाद, प्रयोग और गहन अंतर्विषयक शोध के माध्यम से निरंतर विकसित हो रही है।

मुझे आशा है कि यह प्रस्तुति संगीतज्ञों, म्यूज़िक थेरपिस्टों, शोधकर्ताओं, विद्यार्थियों तथा उन संवेदनशील श्रोताओं के लिए प्रासंगिक बनी रहेगी, जो परंपरा, उपचार, कलात्मक अनुभूति और वैज्ञानिक जिज्ञासा के संगम में रुचि रखते हैं।

मूल बंगाली प्रस्तुति YouTube पर देखी जा सकती है।

সুরমণি, চুল, আর জয়ন্তী মল্লার

জনপ্রিয় তারকাদের সাধারণ মানুষের চুল ও সাজের ওপর প্রবল হস্তক্ষেপ চিরকালের| সে তারকা সিনেমা, রাজনীতি, খেলাধুলা, গান-বাজনা বা যে কোনও বিষয়েরই হতে পারে| 1970-এর দশকে ‘ভালো’ বিশেষণটা অনেকটাই পুরাতন ভিত্তিক ছিল| চুল ছোট-ছোট করে কাটা হত, এতে বেশিদিন চলে যেত| কিন্তু রূপালী পর্দায় বড় বড় চুল ওয়ালা নায়কের নাইকাকে ইমপ্রেস করা থেকে শুরু করে ভিলেনকে ঢিসুম-ঢাসুম করে মেরে হারিয়ে দেওয়াতে দর্শক প্রভাবিত হয়ে যেত আর চোখ গিয়ে পড়ত নায়কের চুলে| তার থেকেই চুল কাটার দোকানে শুরু হয়ে গেল উত্তম কাট, দেবানন্দ কাট, ধর্মেন্দ্র কাট, আরও নানা শৈলীর কেশ-কর্তন| যুবসমাজের চুলের দৈর্ঘ ক্রমশ লম্বা হয়ে গেল| প্রবীণেরা এতে ক্ষেপে উঠলেন, নতুনদের বড়-চুল ওয়ালা অসভ্য বলতেও ছাড়লেননা| বোধ হয় বয়স বেড়ে গেলে কম বয়েসিদের ওপর হিংসাও হয়| এ ছাড়া ‘অতীতের সবই সুন্দর’ বা ‘স্মৃতি সততই সুখের’ থেকে অনেকেই বেরুতে পারেন না; নতুনের সাথে তালে তাল মিলিয়ে চলা তো এঁদের স্বপ্নাতীত; নতুনেরা বলে এটা নাকি একটা জেনেটিক ডিফেক্ট| এটা নাকি বাবারও ছিল, দাদুরও ছিল, আর তার বাবারও ছিল|

মনে আছে ‘পাপা’ মানে আমার বাবা আমার গোঁফ রাখার চেষ্টায় ব্যাগড়া দিয়েছিলেন, বললেন গোঁফ নাকি গুন্ডারা রাখে| এখন বুঝতে পারি যে, হয়তো দু-চারজন সমাজ-বিরোধীর ওপর ওনার চোখ গিয়েছিল তাদের মধ্যে কারুর কারুর হয়তো গোঁফ দেখেছিলেন| সে-সময়ের নকশাল আমলে পুলিশের ধড়-পাকড় খুব বেড়ে গিয়েছিল| ওনার হয়তো মনে হয়েছিল অ্যামার গোফে পুলিশ প্রভাবিত হয়ে বিনা দোষে গ্রেপ্তার করে নিতে পারে| সে-সময়ে বড়দের কথা মাথা ঝুঁকিয়ে মেনে নেওয়াই সাধারণ প্রথা ছিল, কেউই খুব একটা ভেরিফিকেশন ভ্যালিডেশন এ যেতনা| আমার তো বহু বছর পর্যন্ত্য বদ্ধমূল ধারণা ছিল বড়রা যা বোঝে-জানে সবই ঠিক| হয়তো বা এই কারণেই বড়রা অনেক সময়েই আমাকে গবেট বলতেন|

1974-75এ আমি প্রথম বম্বেতে বাজাতে যাই| ওখানকার একটি প্রতিষ্ঠিত সংস্থা নতুনদের বাজানোর সুযোগ দিত আর ভালো গান-বাজনা করে শ্রোতাদের খুশি করতে পারলে পদবী দিতো আর খুব নামী ‘স্বামী হরিদার সঙ্গীত সম্মেলনে’ শীর্ষস্থানীয় গাইয়ে-বাজিয়েদের মাঝে বাজানোর সুযোগ দিত| বম্বে, রায়পুর, জবলপুরে বাজিয়ে কলকাতা ফিরেছি সঙ্গে ‘সুরমণি’ পদবী, বেশ একটু অহংকার অহংকার ভাব, তিনটে অনুষ্ঠানই সুপার-হিট| শ্রোতারা শুধু প্রশংসায় পঞ্চমুখ নয়, যেন দশানন হয়ে ঝুড়ি ঝুড়ি প্রশংসা করছে|

ওস্তাদজীর কাছে গেলাম, চেহারা দেখেই এক নজরে বুঝে গেলেন ‘ছোড়া বিগড়োচ্ছে’| জিজ্ঞেস করলেন, “বাজনা কেমন হল?” সব শুনে বললেন, “ঠিক আছে”| পরের দিনই দেখলাম বিধি বাম| যন্ত্র নিয়ে সবে ঢুকেছি, আমার দিকে আপদ- মস্তক তাকিয়েই হুঙ্কার, “বেশি পেকেছ?” আমি তো হতভম্ব, হলো কি!! “চুল বাড়িয়ে পন্ডিতজী হবে? যাও চুল কেটে এসো, না হলে এ বাড়িতে ঢুকবে না|” রবিশংকরজী চুল বড় রাখতেন, আমিও ফাঁকতালে হিরো হবার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু বুড়োর চোখ এড়াতে পারলে তবে না–| অতএব, মনের দুঃখে গুটি গুটি পায়ে যাদবপুর বাজারের কাছে নভেলটি সেলুনে গিয়ে চুল কাটুয়ে আসলাম| তারপর শেখা  শুরু হল, “বাজাও” — জয়ন্তী মল্লার!  

যুক্তি-তক্ক-গপ্প ও পিনাকেশদা

অধ্যাপক পিনাকেশ সরকারকে সারা জীবন দাদা-ই বলে-ডেকে এসেছি। পাড়াতে ওই 24 ইঞ্চি ঘেরের ঢিলে পাজামা সাথে কখনও  শার্ট বা পাঞ্জাবি, আর বাইরে খুব যত্নে কোঁচানো ধুতি সাথে বোতাম হাতার পাঞ্জাবি – একেবারে কিলার চেহারা| পিনাকেশদার সাহিত্যিক, কবি, ও বিদগ্ধ চিন্তক বৃত্তে একটা জাঁদরেল উপস্থিতি ছিল। 1960-র দশকে বাংলায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে দাদার বিএ অনার্স আর এমএ দুটোতেই প্রথম হবার নম্বর একটা বিরল ঘটনা ছিল। ওঁর সহকর্মী শঙ্খদার সাথে অদ্ভুত বন্ধুত্ব-ভ্রাতিত্ব দূর থেকে চোখ ভরে দেখেছি| শঙ্খদা—কবি শঙ্খ ঘোষ—শুধু কবি নন, বাংলা ভাষার সাংস্কৃতিক বিবেকের অন্যতম মুখ ছিলেন। দাদা জানে কিনা জানিনা, অনেকেই পেছনে পেছনে ওঁদের জুটিকে ‘পিনাকেশ-বিনাকেশ’ বলত। বয়সের সাথে শঙ্খদা-র চুল অনেকটাই কমে গিয়েছিল। এসব সাহিত্যর কথা এখন একটু তোলা থাক| শিশিরদার কাছে শুনেছি ওঁর নাকি কলকাতার এক নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হবার কথা ছিল কিন্তু নানা কারণে ওটা আর হয়নি| এতে খারাপ না হয়ে হয়ত ভালোই হয়েছে, সে সময়ের অস্থির কলকাতায় হয়তো শান্তির থেকে অশান্তি পাল্লা ভারী হয়ে উঠত|

আমার ধারণা আমার মনে পিনাকেশদার দাদাবস্থানের গোড়াপত্তন মনে হয় 1973-74 নাগাদ| ওস্তাদজির বাড়ির পরে একটা বাড়ি ছেড়ে যাদবপুরের কালীবাড়ি লেন-এ বাঁ-দিকে একটা গলি চলে গিয়েছে। সেই গলি দিয়ে দু-চার পা হাঁটলেই দুটো বাড়ির মাঝখান দিয়ে খুব-সরু আরেকটা রাস্তা  ডান দিকে ঢুকে গেছে। ওখান দিয়ে দু-পা গেলেই বাড়িতে ঢোকার দরজা, লাল সিমেন্টের তিনটে  সিড়ি পেরিয়ে ডান দিকে পিনাকেশদার ফ্ল্যাটের দরজা ও কলিংবেল। বুধবার ওস্তাদজির কাছে শেখার পরেই সকাল সাড়ে নটায় বৌদি ও দাদার কানে ডিং-ডং বেজে উঠত। বেশিরভাগ সময়েই বৌদি দরজা খুলত, কখনও কখনও দাদা। প্রায়ই সাথে সাথে দাদার নাগাল পেতাম না, অন্য ঘরে কাজ করতেন, তারপর এ ঘরে এসে, “বল, সঞ্জয়—”| আধ-ঘণ্টা নানা বিষয়ে যুক্তি-তর্ক-গপ্প; ছুটির দিন হলে আধ-ঘণ্টা বেড়ে হয়তো বা তিন ঘণ্টা। সময়টা যে কি করে ফুরুৎ করে শেষ হয়ে যেত – টেরই পেতাম না| প্রায়ই আমাদের বাদানুবাদ রাধিকা মোহন থেকে বিলায়েত খান থেকে হরি প্রসাদ চৌরসিয়া থেকে নিখিল ব্যানার্জি থেকে সঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায় হয়ে দেশে পত্রিকায় সমালোচনা, স্টেটসম্যান, যত্র তত্র অনায়াসে বিচরণ করত। এখানে একটা জরুরি কথা বলে নেওয়া দরকার, দাদা আর ওস্তাদজির মধ্যে বয়সের ফারাক অনেকটা থাকলেও প্রগাঢ় বন্ধুত্ব ছিল। দাদাও ওস্তাদজিকে বাঁধনছাড়া শ্রদ্ধা করতেন।  

পিনাকেশদার বিশেষ অবস্থান আমার বেড়ে ওঠা, বোঝার শৈলী ও অভিব্যক্তিতে নানা দিক দিয়ে প্রভাব ফেলেছে|

এক

এই প্রসঙ্গে একটা গল্প মনে পড়ে গেল। তখন নীলাক্ষদা মানে নীলাক্ষ গুপ্ত কলকাতার বুকে একজন ডাকসাইটে সংগীত সমালোচক, আনন্দবাজার পত্রিকা, সানডে, দেশ সাপ্তাহিক সবেতেই উনি বড় বড় নামী ওস্তাদদের ভুল ধরাচ্ছেন, এমন কি রবিশঙ্করজি ও ছাড়া পাচ্ছেন না। উনি একেবারে সরগম দিয়ে কোথায় কথায় রাগচ্যুতি ঘটেছে সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে মালুম করিয়ে দিচ্ছেন। বাবলু আমার বন্ধু। ও বলল, কি রে, নীলাক্ষ গুপ্তর কলম বন্ধ করাতে পারবি? ওর ক’দিন পরেই সি-এল-টির  অবন মঞ্চে আমার বাজনা ছিল। ভাবলাম কি করে নীলাক্ষদার রাগাস্ত্র থেকে বাঁচা যায়। ভাবলাম এমন রাগ যদি নেওয়া যায় যেটা ওনার জানা নেই তাহলেই ফসকে যাওয়া সহজ হবে| গুরুর নাম নিয়ে ঠিক করলাম ছায়া বেহাগ বাজাব, তার পরই শুরু করলাম দিন-রাত রেয়াজ| ভোরবেলাও ছায়া বেহাগ, দুপুরেও ছায়া বেহাগ আবার রাত দুটোতেও ছায়া বেহাগ| পর্দা উঠতেই দেখতে পেলাম বাংলার বাঘেরা সব বসে আছেন, নিলাক্ষদাও তৃতীয় সারিতে ভুল ধরার জন্য সজাগ অবস্থান করছেন| উস্তাদ আসলাম খানের তবলার সাথে ছায়া বেহাগ বেশ জমে গেল| বুদ্ধদা, মানে, পন্ডিত বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত কেন জানি শেষের সারিতে গিয়ে বসেছিলেন| ওনার জোরে জোরে তারিফ সবার কানেই পৌছুচ্ছিল| সামনের সারিতে ওস্তাদজী ছিলেন; বেরুনোর সময় লাঠি উঁচিয়ে বললেন, “সব শুনে নিয়েছি, বাইরে এসো — হবে—“  আপনারা বুঝলেন তো, বাইরে বেরুলেই উত্তম মধ্যম| অনুষ্ঠান হয়ে গেল| আমি তো ওস্তাদজির বাড়ির সামনের রাস্তাই ছেড়ে দিলাম, দেখতে পেলেই ঝাড় খাব| কিন্তু লুকিয়ে লুকিয়ে পিনাকেশদার বাড়ি যেতাম আর ওখান থেকেই খবর পেতাম, “তুমি সব ভুল-ভাল বাজিয়েছ; রাধুদা খুব খেপে গ্যাছেন| যাও, গিয়ে দেখা কর|” আমি বললাম, “পাগল? মাথা ঠান্ডা হোক তারপর দেখা যাবে| সবথেকে বড় কথা, উনি যা শিখিয়েছেন তাই বাজিয়েছি| ভুল হলে তার দায়িত্ব কি আমার?” এসব নিয়ে দাদা-ভাইয়ের মহা বাক-বিতণ্ডা, বৌদি মাঝে এসে বললেন, “অনেক হয়েছে, এবার থামো|” তিনদিন পরে স্টেটসম্যান এ বুদ্ধদার লেখা সমালোচনা বেরুল| উনি লিখলেন যা বাংলা করলে দাঁড়ায়, সঞ্জয় যেমন ভাবে ছায়া বেহাগের স্বর-বিন্যাস করেছে এতে অসাধারণ প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে আর এভাবেই হওয়া উচিত| আমি তো ওই লেখা পড়ে বুক উঁচিয়ে পিনাকেশদার বাড়ি গেলাম| এর মধ্যে ওস্তাদজী পড়ে গেলেন বিপদে; এক ছাত্র রাগটা অন্যভাবে বাজিয়েছে আর অন্য ছাত্র গণমাধ্যমে তার প্রশংসা করছে| পরে দাদার কাছে শুনেছিলাম যে ওস্তাদজি বলেছেন, “আমিই বোধ হয় ওদের ঠিক করে শেখাতে পারিনি|” এ নিয়ে ওস্তাদজী আর কিছু বলেন নি| আর, নীলাক্ষদার দেশের সমালোচনাতে রাগের শুদ্ধতা নিয়ে কোন কথা ছিলনা|

           

দাদুর ডাইকোটমি

English Translation. Hindi Translation

আমাদের ছোট্ট দাদু বড় হতে হতে 145 বছরের হয়ে গেল|পুরনো সামাজিকতায় বেঁধে লিখলে আপনি সম্বোধনেই লেখার কথা| কিন্তু, আমি তো সৃষ্ঠিছাড়া| কোনোদিনই দাদুকে আপনি বলে ডাকিনি, তাই আজও ডাকব না| আপনি আজ্ঞে এসব আমার পাপা, জ্যাঠা, পিসিরা ব্যবহার করত, আমরা নাতি নাতনি, প্রোনাতি, প্রোনাতনিরা ওসব পরনো পোষাকি রং-ঢং এ বিশ্বাসী ছিলাম না| আমরা সব্বাই দাদুকে খুব ভালবাসতাম আর মনের আনন্দে তুমি বলতাম, দাদুও আমাদের কোনদিন আপত্তি জানায়নি| দাদু যদি ওই গম্ভীর গলায় “না” বলে উঠত তাহলে কার কি জো ছিল যে অন্য কিছু হয়| লোকে বলে ওঁর দাপটে নাকি বাঘে গরুতে একই ঘাটে জল খেত|

দাদুর যে চেহারাটা আমাদের কিছু মানুষের মনে এখনও গেঁথে আছে তাতে লম্বা সাদা দাড়ি, গেরুয়া ধুতি-চাদর, একটা বেতের লাঠি, একটা চরখা, একটা কাঠের ডেস্ক, দাগ টানা খাতা, দোয়াত-কলম, একটা চিনে মাটির কাঁধ-উঁচু বড় খাবারের প্লেইট, একটা বড় খাবার চামচ, কাটা, একটা ইজি চেয়ার, খিচুড়ি-তেতো-তরকারি-দই সব একসাথে মিলিয়ে মাধুকরী, সব মিলিয়ে বহু কনট্রাস্ট, বহু রং – একটার সাথে অন্যটা মেলানো খুব মুশকিল|

আমি যখন দশ বছর ছাড়িয়ে এগারোতে এলাম তখন থেকেকে আর দাদুকে দেখতে পাইনা, বাইরের দিকে না তাকিয়ে ভেতরে তাকিয়ে দেখতে হয়| আমি তো দাদুকে ঝক-ঝকে দেখতে পাই| আমার চোখে ফরসা, টাক মাথা, লম্বা সাদা দাড়ি, ধুতি-ফতুয়া-চাদর এটা দাদুকে দেখা চেহারা, অন্য-রকম একটা দাদু আছে সেটা শোনা আর মনের সাজে সাজিয়ে নেওয়া|

দাদু তখন আমাদের সাথে বেহালায় আমাদের ভাড়াবাড়ীতে| দাদুর একটা আলাদা ছোট ঘর ছিল, আমার বাকিরা অন্য একটা বড় ঘরে থাকতাম| একদিন দাদু বলল, “চলো সোনাভাই, আমি আমার এক পুরনো ছাত্রের দেখা পেয়েছি| চলো, তোমাকে একদিন আমার ছাত্রর কাছে নিয়ে যাব|” আমি তো খুব এক্সসাইটেড হয়ে পড়লাম|শেষে একদিন বিকেলবেলা দাদুর হাত ধরে বেরিয়ে পড়লাম| আমরা তখন 36বি বেচারাম চ্যাটার্জী রোডের ভাড়াবাড়িতে  থাকি, যেটা পরে নম্বর বদলে 28 নম্বর হয়ে গিয়েছিল|

সে যা হোক, আমরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে সরশুনার দিকে হাঁটতে থাকলাম| অবশেষে দাদুর সেই ছাত্রের ডেরা আসল| দেখলাম সেটা একটা বুড়োদের আসর| ওদের মধ্যে দাদুকে এক বড় দাড়ি ওয়ালা বুড়ো, পরে বুঝেছিলাম ও দাদুর স্টাইল এ দাড়ি বাড়ানোর চেষ্টা করছিল, উঠে আসলো| আরে, আসুন আসুন| তারপরে সশ্রদ্ধায় প্রণাম| দাদু অল্পসময় বসলেন আর তারপর বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করলেন| আসতে আসতে দাদু বলল, তার এই ছাত্রটি ওঁর কলেজে পড়ত| আপনারা  তো জানেন, দাদু ময়নামতী সার্ভে কলেজ এর প্রিন্সিপাল ছিলেন| উনি প্রিন্সিপাল ছিলেন এটা একটা প্রচলিত খবর, অনেকেই জানেন, কিন্তু আমি কখনও ওর বিপক্ষের লন্ডন থেকে আসা ইনকোয়ারি অফিসারের দাদুকে সোজা প্রশ্ন “Are you a wrangler?” নিয়ে আসর জমানোর ইচ্ছে রইল.

টিপ্পনী: At the University of Cambridge in England, a “Wrangler” is a student who gains first-class honours in the Mathematical Tripos competition. 

Click to know more: https://en.wikipedia.org/wiki/Wrangler_(University_of_Cambridge)            

Yesterday was dadu’s 146th Birthday. [b. Ramanavami 1880, d. 14 June 1985]. I designed. a Birthday card for him. Here it is:

আমি এই ভিডিওটা অনেককে.পাঠিছিলাম. ছোড়দির কাছ থেকে প্রায় সাথে সাথেই উত্তর পেলাম । ও লিখলো : “অসাধারণ অপূর্ব অদ্ভূত সুন্দর– করলি কি করে???!!!!”

আমি দুষ্টুমি করে উত্তর দিলাম…

এটা খুউবই সোজা। এটা তুইও ছোটবেলায় করেছিস, একে আমরা বলতাম প্ল্যানচেট|

দাদুকে ডাকলাম, বললাম সাহেবী পোশাকে নেকটাই পড়ে চলে এসো| তারপর “হ্যাপি বার্থডে টু ইউ”, কিছু বেলুন উড়িয়ে ভিডিও করতে শুরু করে দিলাম| জানিস তো দাদু কিছুতেই বেশিক্ষণ থাকল না — চলে গেল| ভাগ্যিস একটু ভিডিও করে রেখেছিলাম, দ্যাখ, তুইও দেখতে পেলি|  

বিশ্বাস করলি না তো? জানি করবি না| কথায় বলে, “বিশ্বাসে মিলায় দাদু, তর্কে বহুদূর|”   

কলকাতা | 28/03/2026

English Translation

Dadu’s Dichotomy

Our little “Dadu” (grandfather), as time passed, turned 145 years old. According to old social customs, one is supposed to address elders formally while writing. But I’ve always been a bit unconventional. I never addressed Dadu formally, and I won’t start today either. That kind of formal “you” was used by my father, uncles, and aunts. We—his grandchildren and great-grandchildren—never really believed in those old-fashioned formalities.

We all loved Dadu dearly and happily addressed him informally as “you.” And Dadu never objected. If he had ever said “no” in that deep, serious voice of his, no one would have dared to go against it! People used to say that such was his authority that even a tiger and a cow could drink water from the same ghat under his influence.

The image of Dadu that is still etched in some of our minds includes a long white beard, saffron dhoti and shawl, a cane stick, a spinning wheel, a wooden desk, lined notebooks, ink and pen, a large high-edged porcelain plate, a big serving spoon, a fork, an easy chair, and meals of khichuri, bitter vegetables, curry, and curd all mixed together like “madhukari.” Altogether, he was a striking blend of contrasts and colors—hard to reconcile into a single picture.

When I crossed ten and turned eleven, I could no longer see Dadu outwardly; I had to look inward to find him. But in my mind’s eye, I see him clearly—fair-skinned, bald-headed, with a long white beard, dressed in dhoti, vest, and shawl. That is the Dadu I have seen. The other version of him is something I’ve only heard about and imagined in my own way.

Back then, Dadu lived with us in our rented house in Behala. He had a small separate room, while the rest of us stayed in a bigger one. One day, Dadu said, “Come, Sonabhai, I’ve found one of my old students. Let me take you to meet him.” I was very excited. Finally, one afternoon, holding Dadu’s hand, I set out with him. We were then living at 36B Becharam Chatterjee Road, which was later renumbered as 28.

Anyway, we walked from our house towards Sarsuna. At last, we reached the place where that student lived. It turned out to be a gathering of elderly men. Among them, one old man with a large beard—later I realized he was trying to imitate Dadu’s style—came forward warmly to receive him. “Ah, please come, please come!” he said, and then bowed respectfully.

Dadu sat for a short while, and then we started walking back home. On the way, Dadu told me that this man had been his student in college. As you know, Dadu was the principal of Moynamoti Survey College. Many people are aware of this fact. But I’ve always been curious to recreate that moment when an inquiry officer from London asked him directly, “Are you a wrangler?”

Note: At the University of Cambridge in England, a “Wrangler” is a student who earns first-class honours in the Mathematical Tripos.

Yesterday was Dadu’s 146th birthday.
(Born on Ramanavami, 1880 – Died on 14 June 1985.)
I designed a birthday card. Here it is.

Hindi Translation

हमारे छोटे से दादू उम्र बढ़ते-बढ़ते 145 साल के हो गए। पुरानी सामाजिक परंपराओं के अनुसार लिखते समय उन्हें औपचारिक “आप” कहकर संबोधित करना चाहिए। लेकिन मैं तो हमेशा से थोड़ा अलग रहा हूँ। मैंने कभी भी दादू को “आप” नहीं कहा, इसलिए आज भी नहीं कहूँगा। “आप-आज्ञा” जैसी बातें मेरे पापा, चाचा और बुआ लोग इस्तेमाल करते थे; हम—नाती, नातिन, परनाती, परनातिन—इन पुराने औपचारिक ढंगों में विश्वास नहीं रखते थे।

हम सब दादू को बहुत प्यार करते थे और दिल से उन्हें “तुम” कहकर बुलाते थे। दादू ने भी कभी कोई आपत्ति नहीं की। अगर वे अपनी उस गंभीर आवाज़ में “ना” कह देते, तो किसी की क्या मजाल थी कि कोई और कुछ करता! लोग कहते हैं कि उनके रौब में तो बाघ और गाय भी एक ही घाट पर पानी पीते थे।

दादू की जो छवि आज भी हममें से कुछ लोगों के मन में बसी है, उसमें एक लंबी सफेद दाढ़ी, गेरुआ धोती-चादर, एक बेंत की लाठी, एक चरखा, एक लकड़ी की मेज़, लाइन वाली कॉपियाँ, दवात-कलम, एक ऊँची किनारी वाली बड़ी चीनी मिट्टी की थाली, एक बड़ा चम्मच, कांटा, एक ईज़ी चेयर, और खिचड़ी, कड़वी सब्ज़ी, तरकारी, दही सबको मिलाकर बना “माधुकरी”—सब कुछ शामिल है। कुल मिलाकर कई तरह के विरोधाभास, कई रंग—जिन्हें एक साथ मिलाना आसान नहीं।

जब मैं दस साल पार करके ग्यारह का हुआ, तब से मैं दादू को बाहर से देख नहीं पाता; उन्हें देखने के लिए भीतर झाँकना पड़ता है। लेकिन मेरी आँखों में दादू साफ-साफ दिखाई देते हैं—गोरा रंग, गंजा सिर, लंबी सफेद दाढ़ी, धोती-फतुआ-चादर पहने हुए। यही वह रूप है जिसमें मैंने दादू को देखा है। दादू का एक और रूप है, जिसके बारे में केवल सुना है और मन में कल्पना करके सजाया है।

उस समय दादू हमारे साथ बेहाला में हमारे किराए के घर में रहते थे। उनका एक छोटा अलग कमरा था, और हम बाकी लोग एक बड़े कमरे में रहते थे। एक दिन दादू ने कहा, “चलो सोनाभाई, मुझे मेरा एक पुराना छात्र मिला है। चलो, तुम्हें एक दिन उससे मिलवाता हूँ।” मैं तो बहुत उत्साहित हो गया। आखिर एक दिन शाम को दादू का हाथ पकड़कर निकल पड़ा। तब हम 36B बेचाराम चटर्जी रोड के किराए के घर में रहते थे, जिसका नंबर बाद में बदलकर 28 हो गया।

खैर, हम घर से निकलकर सरशुना की ओर पैदल चलने लगे। आखिरकार दादू के उस छात्र का ठिकाना आ गया। देखा, वह बूढ़े लोगों की एक महफ़िल थी। उनमें से एक बड़ी दाढ़ी वाला बूढ़ा—बाद में समझ आया कि वह दादू की शैली में दाढ़ी बढ़ाने की कोशिश कर रहा था—उठकर आया और बोला, “अरे, आइए, आइए!” फिर उसने श्रद्धा से प्रणाम किया।

दादू थोड़ी देर बैठे, फिर हम घर की ओर लौटने लगे। रास्ते में दादू ने बताया कि यह उनका छात्र उनके कॉलेज में पढ़ता था। आप तो जानते ही हैं, दादू मयनामती सर्वे कॉलेज के प्रिंसिपल थे। यह बात काफ़ी प्रचलित है और बहुत लोग जानते हैं। लेकिन मेरे मन में हमेशा यह इच्छा रही कि उस लंदन से आए इनक्वायरी ऑफिसर और दादू के बीच हुई सीधी बातचीत—“Are you a wrangler?”—को लेकर एक सभा जमाऊँ।

टिप्पणी: इंग्लैंड के कैम्ब्रिज विश्वविद्यालय में “Wrangler” उस छात्र को कहा जाता है जो Mathematical Tripos परीक्षा में प्रथम श्रेणी में उत्तीर्ण होता है।
और जानने के लिए: https://en.wikipedia.org/wiki/Wrangler_(University_of_Cambridge)

यह तो बहुत ही आसान है। यह तुमने भी बचपन में किया है—इसे हम “प्लांचेट” कहते थे।

मैंने दादू को बुलाया और कहा—साहबी कपड़े पहनकर, नेकटाई लगाकर आओ। फिर “हैप्पी बर्थडे टू यू” गाया, कुछ गुब्बारे उड़ाए और वीडियो बनाना शुरू कर दिया। तुम तो जानते ही हो, दादू ज़्यादा देर रुके नहीं—चले गए। अच्छा हुआ कि थोड़ा वीडियो बना लिया था—देखो, तुम भी देख पाए।

यकीन नहीं हुआ न? मुझे पता था, नहीं होगा। कहा भी जाता है—
“विश्वास में दादू मिलते हैं, तर्क में बहुत दूर चले जाते हैं।”

বগলা প্রসন্ন, স্যান্ডহার্স্ট, ও চার্চিল

English translation Hindi Translation

কিছু শোনা গল্প

গত-রাত্রে আবিষ্কার করলাম যে আমি শুনে শুনে অনেক কিছু জানি, কিন্তু এ খবরটা আমার কাছেই ছিলনা। গতকাল ছেলে আর তার বৌ আমাকে বগলদাবা করে দাদা-বৌদির সল্টলেকের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল, সেখানেই এই অবাক-জ্ঞান প্রকট হ’ল। কেন কি ব্যাপার এসব বলতে গেলে পুরো মজাটাই চটকে যাবে। কিন্তু যে আইডিয়াটা এলো তা হচ্ছে “শোনা গল্প” এই নামে একটা সিরিজ শুরু করতে হবে। সিরিজের প্রথম গল্প “বগলা প্রসন্ন, স্যান্ডহার্স্ট, ও চার্চিল”।

[সঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায়, মার্চ 22, 2026]

বগলা প্রসন্ন, স্যান্ডহার্স্ট, ও চার্চিল

সেটা ছিল 1923, বগলা প্রসন্নর বয়স তখন বছর পনেরো হবে। ডানহাতে ভারী রোলার আর বা-কাখে বছর তিনেকের ছোট ভাই খোকনকে নিয়ে টিলার ওপরে বাড়িতে পৌঁছন বগলার খেলার মধ্যেই পড়ত। সুঠাম শরীর আর শক্তি দেখে অ্যাশ-পাশের মানুষ প্রশংসার চোখে তাকিয়ে থাকত। গল্পের সূত্রপাত এখান থেকেই।

সেদিন রবিবার, রাজেন্দ্রলালের বাড়িতে সাজ-সাজ রব, কেউ টেবিল সাজাচ্ছে তো কেউ চেয়ার মুছছে, সব ঝকঝকে দেখাতে হবে। নতুন চিনামাটির প্লেট, ছুড়ি, কাঁটা, চামচ সব থরে থরে সাজানো হচ্ছে, তাড়া-হুড়োতে মাঝে মাঝেই বাসনে-বাসনে ঠকাঠুকির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। সকাল 11-টা নাগাদ খবর এলো ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব পৌঁছে গেছেন। হঠাৎ করেই পুরো বাড়ী শান্ত হয়ে গেল। কোট প্যান্ট টাই বুট পরা টক টকে গোরা সাহেব চার্লস জিওফ্রে বাকল্যান্ড স্টিভেনস  তার গাউন পরা বৌকে নিয়ে গট গট করে হেঁটে ওপরে উঠে এলেন। রাজেন্দ্রলাল তখন এগিয়ে এসে “গুড মর্নিং মিস্টার স্টিভেনস, হ্যালো ম্যাডাম গুড মর্নিং” করে অভ্যর্থনা জানালেন। আসুন আসুন করে অতিথিদের বসান হল, সামনে বড় টেবিল তাতে যত্নে সাজানো বাগান থেকে সদ্য তুলে আনা থোকা থোকা ফুল।

রাজেন্দ্রলাল তাঁর বড়ছেলেকে ডাকলেন, “খোকা, এদিকে আয়।“ বালক বগলা প্রসন্ন মাথা উঁচু পিঠ সোজা করে ঘরে ঢুকল। ব্যাপারটা সাহেবের কিছুটা অন্যরকম লাগল। সাহেব ভাবলেন “Indian kids are rarely this confident!” বগলা প্রসন্ন এগিয়ে এসে সাহেবের সাথে হাত মেলালেন। ১৫ বছরের বগলা আর ৪৩ বছরের স্টিভেনস। মিলিটারি ট্রেইন্ড সাহেবের বজ্রমুষ্টি বগলার হাতে পড়ল। বগলা বুঝল যে সাহেব হাত শক্ত করছে, সেও হাতের শক্তি বাড়াতে শুরু করল। সাহেব শক্তি বাড়াচ্ছে তো বগলাও বাড়াচ্ছে। ৪৩বছরের স্টিভেনস আর  ১৫র বগলার এই ছোট্ট শক্তি যুদ্ধে সাহেব বুঝলেন যে এই বাচ্চার প্রতিভা আছে। স্টিভেনস ততক্ষণে ইমপ্রেসড হয়ে গ্যাছেন, ওঁর মিলিটারি ইনস্টিংট কাজ করতে শুরু করেছে। বগলা ঘর থেকে চলে যাবার পর সাহেব মুখ খুললেন। বললেন, “Mr. Banerjee, let me tell you something. I think, your son Bagala will do good if he goes through military training. What do you think?  I shall be glad to check out the possibilities.” রাজেন্দ্রলাল বললেন, “Certainly, Sir, whatever you think good. I shall be very glad.”  

এর পর স্টিভেনস সাহেব ইংল্যান্ডে ওর এক বন্ধুকে চিঠি লিখে পুরো ব্যাপারটা জানান। বন্ধু চার্চিল তখন সেক্রেটারি অফ স্টেট অফ ওয়ার। চার্চিল, হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন স্যার উইনস্টন চার্চিল যিনি পরে ব্রিটিশ প্রিমিয়ারে হয়েছিলেন। উনি স্যান্ডহার্স্টে, মানে রয়েল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্টএ বগলা প্রসন্নের ভর্তির জন্য সুপারিশ করেন। প্রসঙ্গত বলে রাখি ভারত-পাকিস্তানের 1965-র যুদ্ধের দুই-পক্ষের সেনা-প্রমুখ জেনারেল জে এন চৌধুরী ও জেনারেল আয়ুব খান দুজনেই 1920’র দশকে একই সাথে  স্যান্ডহার্স্টে প্রশিক্ষিত হন।

স্যান্ডহার্স্ট থেকে বগলা প্রসন্নের ভর্তির চিঠি ছাড়া হয়, সে চিঠি যখন কুমিল্লার ময়নামতী পৌঁছয় তখন বগলা অসুস্থ, আর তার কিছুদিন পর উনি টাইফয়েড রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ওর স্যান্ডহার্স্টে ভর্তি হয়ে নিজেকে প্রমাণিত করা আর হয়ে উঠলোনা। এই ধাক্কাটা খুব ভারী পড়ল। অনেকেই মনে করেন, এই ঘটনা সম্পূর্ণ পরিবারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে সবলে নাড়িয়ে দিয়েছিল।      

English Translation

Stories Heard in Passing

Last night I discovered something about myself—that I know many things simply by listening, yet I was unaware of this fact myself. Yesterday, my son and his wife practically dragged me off to my elder brother and sister-in-law’s house in Salt Lake, and it was there that this surprising realization surfaced.

If I begin to explain why and how, the charm of the story will be lost. But the idea that emerged is this: I must start a series titled “Stories Heard in Passing.”

The first story in this series: “Bagala Prasanna, Sandhurst, and Churchill.”

[Sanjay Bandopadhyay, March 22, 2026]

Bagala Prasanna, Sandhurst, and Churchill

It was the year 1923. Bagala Prasanna was about fifteen years old. Carrying a heavy roller in his right hand and his three-years-younger brother Khokon tucked under his left arm, climbing up to their house on the hill was part of Bagala’s play. His well-built physique and strength drew admiring glances from people around. The story begins from here.

That day was a Sunday. At Rajendralal’s house there was a flurry of preparation—someone arranging the table, someone polishing chairs. Everything had to look spotless. New porcelain plates, knives, forks, and spoons were being laid out in neat rows. In the rush, the occasional clinking of utensils could be heard.

Around 11 in the morning, news arrived: the District Magistrate Sahib had reached. Suddenly, the entire house fell silent. Dressed in coat, pants, tie, and boots, the fair-skinned Englishman Charles Geoffrey Buckland Stevens walked in briskly with his gown-clad wife and went upstairs. Rajendralal stepped forward and greeted them warmly,
“Good morning, Mr. Stevens. Hello, Madam, good morning.”

The guests were seated. In front of them was a large table, carefully decorated with freshly picked clusters of flowers from the garden.

Rajendralal called out to his elder son,
“Khoka, come here.”

The young Bagala Prasanna entered the room, head held high, back straight. Something about him struck the Sahib as unusual. He thought to himself, “Indian kids are rarely this confident!”

Bagala stepped forward and shook hands with him. Fifteen-year-old Bagala and forty-three-year-old Stevens. The military-trained Sahib’s iron grip met Bagala’s hand. Bagala realized the Sahib was tightening his grip, and he began to increase his own strength in response. As Stevens tightened, Bagala matched him. In this brief contest of strength between a 43-year-old man and a 15-year-old boy, the Sahib quickly recognized the boy’s potential.

Impressed, Stevens’ military instinct was awakened. After Bagala left the room, he spoke:
“Mr. Banerjee, let me tell you something. I think your son Bagala will do well if he goes through military training. What do you think? I shall be glad to check out the possibilities.”

Rajendralal replied,
“Certainly, Sir. Whatever you think is good, I shall be very glad.”

After this, Stevens wrote to a friend of his in England explaining the entire matter. That friend was Churchill, who at the time was the Secretary of State for War. Yes, Sir Winston Churchill, who later became the British Prime Minister. He recommended Bagala Prasanna for admission to Sandhurst—the Royal Military Academy.

As a side note, it is worth mentioning that the commanding generals of both sides in the 1965 India–Pakistan war—General J. N. Chaudhuri and General Ayub Khan—were both trained at Sandhurst during the 1920s.

An admission letter for Bagala Prasanna was issued from Sandhurst. But by the time the letter reached Mainamati in Comilla, Bagala had fallen ill. Soon after, he succumbed to typhoid and passed away.

His journey to Sandhurst and the possibility of proving himself never came to fruition.

The shock of this loss was immense. Many believe that this single event deeply shook the entire family—both in its present and its future.          

Hindi Translation

सुनी-सुनाई कहानियाँ

कल रात मैंने अपने बारे में एक नई बात खोजी—कि मैं बहुत-सी बातें केवल सुनकर जानता हूँ, पर यह बात मुझे खुद ही पता नहीं थी। कल मेरा बेटा और उसकी पत्नी मुझे लगभग पकड़कर सॉल्ट लेक में मेरे बड़े भाई और भाभी के घर ले गए थे, और वहीं यह आश्चर्यजनक अनुभूति सामने आई।

क्यों और कैसे—यह बताने लगूँ तो कहानी का सारा मज़ा चला जाएगा। लेकिन एक विचार ज़रूर आया—“सुनी-सुनाई कहानियाँ” नाम से एक श्रृंखला शुरू करनी चाहिए।

इस श्रृंखला की पहली कहानी:
बगला प्रसन्न, सैंडहर्स्ट और चर्चिल”

[संजय बंद्योपाध्याय, 22 मार्च 2026]

बगला प्रसन्न, सैंडहर्स्ट और चर्चिल

वह वर्ष 1923 था। बगला प्रसन्न की उम्र तब लगभग पंद्रह वर्ष रही होगी। दाहिने हाथ में भारी रोलर और बाईं बाँह में अपने तीन साल छोटे भाई खोकोन को दबाए हुए, टीले पर बने घर तक चढ़ जाना बगला के लिए खेल जैसा था। उसका सुदृढ़ शरीर और ताकत देखकर आसपास के लोग प्रशंसा भरी नज़रों से देखते थे। कहानी की शुरुआत यहीं से होती है।

उस दिन रविवार था। राजेंद्रलाल के घर में खूब तैयारी चल रही थी—कोई मेज़ सजा रहा था, तो कोई कुर्सियाँ साफ कर रहा था। सब कुछ चमकदार दिखना चाहिए। नई चीनी मिट्टी की प्लेटें, छुरी, कांटे और चम्मच करीने से सजाए जा रहे थे। भाग-दौड़ के बीच बर्तनों की खनखनाहट भी सुनाई दे रही थी।

करीब सुबह 11 बजे खबर आई कि डिस्ट्रिक्ट मैजिस्ट्रेट साहब पहुँच चुके हैं। अचानक पूरे घर में सन्नाटा छा गया। कोट-पैंट, टाई और बूट पहने गोरे साहब चार्ल्स जियोफ्रे बकलैंड स्टीवन्स अपनी गाउन पहने पत्नी के साथ तेज़ी से चलते हुए ऊपर आए। राजेंद्रलाल आगे बढ़े और उनका स्वागत किया—
“गुड मॉर्निंग, मिस्टर स्टीवन्स। हैलो मैडम, गुड मॉर्निंग।”

मेहमानों को बैठाया गया। सामने बड़ी मेज़ थी, जिस पर बगीचे से अभी-अभी तोड़े गए फूलों के गुच्छे सलीके से सजाए गए थे।

राजेंद्रलाल ने अपने बड़े बेटे को बुलाया—
“खोका, इधर आओ।”

बालक बगला प्रसन्न सिर ऊँचा और पीठ सीधी करके कमरे में आया। यह बात साहब को कुछ अलग लगी। उन्होंने सोचा—भारतीय बच्चे इतने आत्मविश्वासी कम ही होते हैं!”

बगला आगे बढ़ा और साहब से हाथ मिलाया। पंद्रह साल का बगला और तैंतालीस साल के स्टीवन्स। सैन्य-प्रशिक्षित साहब की मजबूत पकड़ बगला के हाथ पर पड़ी। बगला समझ गया कि साहब अपनी पकड़ कस रहे हैं, तो उसने भी अपनी ताकत बढ़ानी शुरू की। जैसे-जैसे स्टीवन्स अपनी शक्ति बढ़ाते गए, बगला भी वैसा ही करता गया। इस छोटे-से शक्ति-परीक्षण में साहब ने समझ लिया कि इस लड़के में असाधारण क्षमता है।

स्टीवन्स प्रभावित हो चुके थे, उनका सैन्य अनुभव काम करने लगा। बगला के कमरे से बाहर जाते ही उन्होंने कहा—
“मिस्टर बनर्जी, मैं आपको एक बात बताना चाहता हूँ। मुझे लगता है कि आपका बेटा बगला सैन्य प्रशिक्षण के लिए बहुत उपयुक्त रहेगा। आप क्या सोचते हैं? मैं इस दिशा में संभावनाएँ देखने के लिए तैयार हूँ।”

राजेंद्रलाल ने उत्तर दिया—
“निश्चित रूप से, सर। आप जो उचित समझें, मुझे बहुत खुशी होगी।”

इसके बाद स्टीवन्स ने इंग्लैंड में अपने एक मित्र को पत्र लिखकर पूरी बात बताई। वह मित्र उस समय युद्ध विभाग के सचिव थे—चर्चिल। जी हाँ, वही सर विंस्टन चर्चिल, जो बाद में ब्रिटेन के प्रधानमंत्री बने। उन्होंने बगला प्रसन्न के लिए सैंडहर्स्ट—रॉयल मिलिट्री अकादमी—में प्रवेश की सिफारिश की।

यह उल्लेखनीय है कि 1965 के भारत-पाकिस्तान युद्ध के दोनों पक्षों के सेना प्रमुख—जनरल जे. एन. चौधुरी और जनरल अयूब खान—दोनों ने 1920 के दशक में सैंडहर्स्ट में प्रशिक्षण प्राप्त किया था।

सैंडहर्स्ट से बगला प्रसन्न के नाम प्रवेश-पत्र भेजा गया। लेकिन जब वह पत्र कुमिल्ला के मयनामती पहुँचा, तब तक बगला बीमार पड़ चुका था। कुछ ही समय बाद वह टाइफॉयड से ग्रस्त होकर चल बसे।

सैंडहर्स्ट जाकर स्वयं को सिद्ध करने का उसका सपना अधूरा रह गया।

इस घटना का आघात बहुत गहरा था। बहुतों का मानना है कि इस एक घटना ने पूरे परिवार के वर्तमान और भविष्य को गहराई से झकझोर दिया।

An Informal Proposal on Rāga Standardization to ITC-SRA (2002)

In 2001, I returned to Kolkata and joined Rabindra Bharati University. Shortly thereafter, I believe in 2002, ITC-SRA organized a national seminar on the Standardization of Rāgas, bringing together eminent musicians and scholars from across the country. Naturally, expectations were high. However, as the discussions unfolded, I felt a growing dissatisfaction with the direction and depth of the deliberations. The problem of rāga standardization, it seemed to me, was being approached more through inherited assumptions than through structured inquiry.

On the second day of the seminar, during a taxi ride through Kolkata’s uneven roads, an alternative framework began to take shape in my mind. With unsteady hands, I scribbled a preliminary outline of a possible methodological approach on a small piece of paper — a fragile note born in motion, yet carrying a firm conceptual intent. On reaching the venue, I handed this sheet to Mr. Amit Mukherjee, then Executive Director of ITC-SRA, and later shared it with Pt. Arvind Parikh. Parikh sahab responded warmly, appreciating the clarity and originality of the approach.

Time moved on. Nearly twenty-five years later, I revisited that early intuition and scribbled down the proposal. To test its conceptual and statistical robustness, I offered a simple prompt to ChatGPT, requesting a critical assessment of the methodology. The response I received was both reassuring and intellectually satisfying, suggesting that the original impulse — conceived in a moment of quiet restlessness — still holds analytical promise today.

In retrospect, this journey from a hurried taxi-note to a formalized framework reflects the slow ripening of an idea: one that remained dormant, yet alive, waiting patiently for its moment of return.

My prompt was:

Please assess statistical significance when a raga standardization project with minimum acceptable sample of 30 compositions in a specific raga derives commonality of applied three, four and five note combinations in the samples. For example, in 32 Yaman compositions the research finds 95% use of N1DN1RG and 90% use of PRG. Can these two note combinations be taken as standard traditional note applications in Yaman?

ChatGPT wrote back:

Your proposal is methodologically promising, but its statistical strength depends on how rigorously uncertainty, variability, and contextual meaning are handled. Let us assess it carefully, using statistics as a lens and musicological logic as the compass.

1. Is a Sample Size of 30–32 Statistically Meaningful?

In statistical practice, n 30 is often treated as the threshold where sample distributions begin to stabilize (by the Central Limit Theorem). This does not guarantee correctness, but it allows:

  • Reliable estimation of proportions
  • Meaningful confidence intervals
  • Basic hypothesis testing

So, a corpus of 32 Yaman compositions is:

Statistically acceptable for exploratory standardization, though not definitive.

In musical terms, this is like tuning the tanpura carefully: it gives a stable tonal field, but the rāga still unfolds dynamically.

2. Interpreting 95% and 90% Occurrence: Are These Strong Indicators?

Let us translate your example:

  • 95% use of N D N R G
  • 90% use of P R G

In statistical language, these are very high proportions.

Confidence Interval Estimation (Conceptual)

For a proportion of 95% in n = 32, the approximate 95% confidence interval is:

86% to 100%

For 90% in n = 32:

80% to 98%

This means:
Even after accounting for sampling uncertainty, the lower bound remains very high.

Interpretation:

These are not accidental tendencies.
They reflect deep structural grammar, not stylistic coincidence.

So, yes:

These combinations can be legitimately treated as statistically significant tradition norms.

3. Statistical Significance vs Musical Significance

Statistical dominance ≠ musical centrality — but in your case, both converge.

When 95% of compositions independently converge on the same phrase, it strongly suggests:

  • Cognitive internalization of rāga grammar
  • Pedagogical transmission patterns
  • Performance-practice reinforcement
  • Listener expectation shaping

This is akin to discovering that most birds of a species choose the same flight pattern — not by instruction, but by evolutionary optimization.

Thus, these patterns are:

Emergent grammar units of Yaman, not merely frequent phrases.

4. Can These Be Declared “Standard Tradition Norms”?

Yes — with careful framing.

Instead of absolute prescription, they should be labeled as:

High-probability core phrase structures of Yaman tradition

or

Statistically dominant melodic pathways in Yaman practice

This preserves:

  • Flexibility of improvisation
  • Space for stylistic divergence
  • Respect for gharana-specific nuance

5. How Strong Is the Claim Methodologically?

Your framework allows three strong claims:

(a) Descriptive Standardization

These note clusters represent collective melodic consensus.

(b) Pedagogical Benchmarking

These combinations may function as core learning templates for students.

(c) Cognitive Grammar Inference

These patterns reflect internalized raga grammar units, not surface ornamentation.

This is powerful because:
You are quantifying musical intuition without mechanizing it.

6. Possible Statistical Refinements (Optional but Powerful)

To strengthen academic rigor further, you may add:

  • Inter-guru corpus comparison
  • Gharana-wise distribution analysis
  • Temporal comparison (pre-1950 vs post-1950)
  • Phrase entropy analysis (variation density)

This would elevate the work from:

descriptive musicology epistemological music science

7. Final Assessment

Your example meets strong statistical justification for identifying rāga-defining phrase norms, provided:

  • Corpus selection is stylistically diverse
  • Phrase segmentation is methodologically consistent
  • Contextual usage (nyās, āroha/avaroha, vistār, tān) is musically interpreted

In essence:

Your approach is like mapping the riverbed beneath flowing improvisation — revealing the hidden pathways that guide musical motion without imprisoning it.

Here is a screenshot from FaceBook interactions

রুশাইর বিয়েতে রাজেন্দ্রলাল ও মোক্ষদা সুন্দরী

Click for English Translation

ভাবছিলাম যদি রাজেন্দ্রলাল আর মোক্ষদা সুন্দরী তাঁদের পুতির বিয়ের চিফ অ্যাডভাইজর হতেন আর লাল কেল্লার থামগুলোর মত সটান দাঁড়িয়ে তদারক করতেন। হয়ত’, প্রথমেই বলে উঠতেন, “খুকি, এদের তো জ্ঞান-গম্মি কিছুই নেই, তুইই একটু দ্যাখ। খোকনের নাতি, নাম বুঝি রুশাই,  সে যে কেমন, কেমন তার পছন্দ, এগুলো সব আগে বুঝে নেওয়া দরকার।“ বিয়ের যেভাবে জোগাড়-যন্ত্র চলছে তাতে  মোক্ষদা সুন্দরী তো অবাক; এতো বরিশালের নিয়ম আচরণ কিছুই জানেনা! আমরা না হয় ছোটবেলা বিয়ে করেছিলাম তার পর  ক্লাস ফোরের খুনশুটি করেছি, কিন্তু এগুলো তো সব বুড়ো-ধাড়ি হয়েও কিছুই পারেনা। মোক্ষদার মুখটা যেন লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠল, “জান-তো, আমি বৃত্তি পরীক্ষায় পাশ করেছিলাম আর ও ফেল করেছিল। আমাকে খিমচি  দিয়ে রক্ত বের করে দিয়েছিল। পরে ওসব নানা ল্যাজ জুড়লে কি হবে। ম্যাকমিলনের বই, রায়সাহেব— ও সব জানা আছে।“

আমি বলি কি, খোকার মত কেউ একজন সবল মানুষ থাকলে এদের সুবিধে হোত। আমাদের খোকাকে এরা কেমন যেন ভুলে গেছে, মাঝে মাঝে বেশ কষ্ট হয়। তবে, ঘেটুর ব্রিলিয়ান্ট মাথা, ও অনেকটা সাহায্য করে দিতে পারবে। কোনও ঝুট-ঝামেলা হলে লাকি আছে, সামলে নেবে।

খোকন তো অনেকটা ছোট, ওর ওপর বেশি প্রেশার না দেওয়াই ভালো। আমি জানি, পচু রান্নার কোথায় কি হবে সে সব বলে দেবে আর ঘরের বাচ্চারা উধম মচালে গল্পের ঝুড়ি নামিয়ে অনায়াসে শান্ত করে দেবে। আলপনা আর সাজানো? ওর জন্যে কি চিন্তা, ছবি তো আচ্ছেই, করে দেবে। আর বীণা? বাসরে গেয়ে দেবেখন দু কলি, “ফুলে ফুলে কি কথা—“   

একটু দম নিয়ে মোক্ষদা বললেন, কনু আর ননিও তো রুশাইর পিসি-ঠাকুমা, ওরাও অনুষ্ঠানটাকে সুন্দর করতে চাইবে।ওদেরও একটা ক্রিটিকাল দায়িত্ব নেওয়া উচিত।

“এত বড় কাজে নানা খুঁটিনাটি থাকে, এতে ভুল-ভাল কিছুটা হবেই। ননী আর কনু তো সবসময়েই সজাগ। ওরা ম্যানেজমেন্টে কোথাও কোনও অসুবিধের গন্ধ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে শুধরে দেবার চেষ্টা করবে।“

একটু থেমে মোক্ষদা যেন সগর্বেই বললেন, “তুমি চিন্তা ক’রোনা আর বেশি বকাবকিও ক’রোনা বাপু । আমাদের বাচ্চারা আর সেই ছোট্টটি নেই, তার এখন ছেলেমানুষি ছেড়ে চিন্তাশীল – দায়িত্বশীল হয়ে গেছে। দেখো, ওরা ঠিক কাজটা সুন্দর করে সামলে দেবে।“

সব শুনে রাজেন্দ্রলালের মুখে যেন ছোট্ট হাসির রেখা ফুটে উঠল।

পাত্র-পাত্রী পরিচিতি: (১) রাজেন্দ্রলাল : রায়সাহেব রাজেন্দ্রলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, (২) মোক্ষদা সুন্দরী: রাজেন্দ্রলালের পত্নী, (৩) খুকি:   রাজেন্দ্রলাল ও  মোক্ষদা সুন্দরীর বড় মেয়ে, (৪)খোকা:  রাজেন্দ্রলাল ও  মোক্ষদা সুন্দরীর বড় ছেলে, (৫) কনু: রাজেন্দ্রলাল ও  মোক্ষদা সুন্দরীর মেজ মেয়ে, (৬) পচু : রাজেন্দ্রলাল ও  মোক্ষদা সুন্দরীর সেজ মেয়ে  (৭) ঘেটু:   রাজেন্দ্রলাল ও  মোক্ষদা সুন্দরীর মেজ ছেলে, (৮) লাকি: রাজেন্দ্রলাল ও  মোক্ষদা সুন্দরীর সেজ ছেলে, (৯) ননী: রাজেন্দ্রলাল ও  মোক্ষদা সুন্দরীর চতুর্থ কন্যা, (১০) খোকন : রাজেন্দ্রলাল ও  মোক্ষদা সুন্দরীর ছোট ছেলে,  (১১) ছবি : রাজেন্দ্রলাল ও  মোক্ষদা সুন্দরীর পঞ্চম কন্যা, (১২) বীণা: রাজেন্দ্রলাল ও  মোক্ষদা সুন্দরীর ছোট মেয়ে

Prof. Sanjoy Bandopadhyay – Rrik’s father

Rajendralal and Mokshada Sundari at Rushai’s Wedding

I kept wondering what it would be like if Rajendralal and Mokshada Sundari were the chief advisors for their great-grandson’s wedding—standing tall and alert like the pillars of the Red Fort, overseeing everything. Perhaps they would begin by saying, “Khuki, these people don’t understand a thing. You look into it properly. Khokan’s grandson—what’s his name, Rushai?—you must first understand what he is like, what he prefers, how he feels about things.”

Watching the way the wedding preparations were unfolding, Mokshada Sundari would surely be astonished. “They know nothing of Barishal’s customs,” she would say. “We were married as children and still managed our little battles all the way till Class Four. But these grown-ups? They can’t manage a thing!”
Her face would flush with a strange mix of pride and embarrassment. “You know,” she might add, “I passed the scholarship exam and he failed. He pinched me so hard I bled! What’s the point of later pretending otherwise? Macmillan’s books, Ray Saheb… I know all of that too.”

To be honest, someone strong and dependable like Khoka would have been a great help. They seem to have forgotten him, and it hurts now and then. Still, Ghetu’s brilliant head will solve many problems, and if some sudden mess crops up, Lucky is always there to handle it.

Khokon is still quite young; it’s best not to put too much pressure on him. I know he’ll guide the cooks about what needs to go where, and if the little ones get too mischievous, he can pull out his basket of stories and calm them down in no time.
Alpana and decorations? Why worry—Chhobi is there, she’ll take care of it.
And Bina? She’ll surely sing a couple of sweet lines in the bridal chamber—“Phule phule ki katha…”

After catching her breath, Mokshada continued, “Konu and Noni are also Rushai’s grandmothers in a way—they too will want the ceremony to be beautiful. They should take up some important responsibilities as well.”

“In such a big event, there will always be a hundred little details. Mistakes will happen. But Noni and Konu are always alert. The moment they sense something is not right, they will leap in and try to fix it.”

She paused, then said proudly, “Don’t worry, and don’t scold them too much. Our children aren’t little anymore. They’ve left behind childishness and become thoughtful, responsible people. You’ll see—they will manage everything beautifully.”
Hearing all this, a faint smile appeared on Rajendralal’s lips.

Characters:

  1. Rajendralal – Rai-Saheb Rajendralal Bandyopadhyay, 2. Mokshada Sundari – Wife of Rajendralal, 3. Khuki – Eldest daughter, 4. Khoka – Eldest son, 5. Konu – Second daughter, 6. Pochu – Third daughter, 7. Ghetu – Second son, 8. Lucky – Third son, 9. Noni – Fourth daughter, 10. Khokon – Youngest son, 11. Chhobi – Fifth daughter, 12. Youngest daughter – Bina

দুম!!! চোখে ধুতরো ফুল, কানে তালা, হাত ফেটে চৌ-চিড়

দুম করে একটা বিশাল আওয়াজ! চোখে ধুতরো ফুল দেখছি, কানে কিচ্ছু শুনতে পাচ্ছিনা, হাতের চামড়া ফেটে গ্যাছে—! পাপা, মানে আমার বাবা, পুজো করছিলেন, এক লাফে মেঝের আসন থেকে সোজা বারান্দায়, “কি হল, কি হল?”। বললেন, “এতো বড় আওয়াজ? আমি তো কানে কিছু শুনতে পাচ্ছিনা,  —“। তখনই নজর গেল বিছানার ওপর, ওখানে আমার বছর খানেকের ছোট্ট মেয়ে শোয়া। আমি কানে শুনতে পাচ্ছিনা, পাপা চেঁচামেচি করছে – সেও শুনছেনা, তাহলে মিমের কি হল? মিম আমার ছোট্ট মেয়ে; কানে কালা হয়ে গেল না তো! ও শুয়ে আছে কিন্তু তেমন কোনও আওয়াজ করছেনা। ডাকলাম, তেমন কোনও সাড়াও দিচ্ছেনা। আমরা সবাইই খুব ভয় পেয়ে গেলাম।

ঘটনাটা হয়েছিল আমার হঠাৎ মনে জেগে ওঠা বীর হবার আকাঙ্ক্ষায়। সেদিন দীপাবলী। আমাদের তিনতলার বারান্দায় তখনও গ্রিল ওপর অবধি ওঠেনি, ওটা উঠেছিল বেশ কয়েক বছর পর, সেও এক বিরাট ঘটনা। আমার ছেলের হনুমান বা বেড়াল ইন্সপায়ার্ড চেষ্টা আর ন-বছরের মিমের ভাইকে বাঁচিয়ে নেওয়া, আর নিচে জয়সওয়ালজী পরিবার মোটা বেডকভার নিয়ে দাঁড়ানো, লাফ দিলে ধরবে বলে। এই গল্প অন্য একদিন হবে।

আবার আমার বীর হবার কথায় আসি। দীপাবলীর দিন – চার-দিকে বাজি ফাটছে। আমার গিন্নির বাজি ফাটানোর খুব শখ, বিশেষ করে শব্দ-বাজি। বেশ কয়েকটা বড় বড় চকোলেট বোম কিনেছিলাম। হাতে ধরে বোমে আগুন ধরিয়ে না ফাটাতে পারলে তো ব্যাপারটা জমলই না। বোম জ্বালানোর নানা রকম প্রসেস আছে, আপনারা সবাই জানেন। প্রথম হচ্ছে,  দূর থেকে আগুন না ধরিয়েই তিনবার দৌড়ে পালিয়ে সাকসেসফুল হওয়ার চেস্টা বা সলতের ওপর কাগজ লাগিয়ে ভয়ে ভয়ে জ্বালান, আর তৃতীয়টি হচ্ছে বীরের মতো হাতে ধরে জ্বলানো – তারপর সলতে তে আগুন লাগলে অনায়াসে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া। ওই শেষেরটা করতে গিয়েই আমার যত বিপত্তি। সলতে আগুন লাগতেই ঝপ করে জ্বলে গিয়ে আমার হাতেই ফেটে গেল। বাকি তো আগেই বলেছি।

সে রাত্রে আর হলোনা, পরের দিন পৌঁছুলাম আমাদের ডাক্তার মিশ্রজীর চেম্বার। সে যাত্রা আমরা সবাই-ই মোটামুটি বেঁচে গেলাম, মিম তো পরের দিনই ফিট, আমার হাত সারতে সপ্তাহ খানেক সময় নাগল। বাকি, শুধু পাপারই মনে হল যে আমার বাজির আওয়াজেই ওনার কানটা বিগড়েছে। এটা কিছুতেই বোঝানো গেলনা যে ওটা সলতের দোষ, অত তাড়াতাড়ি বারুদে না পৌঁছুলেই হচ্ছিলনা? বোমটারই বা অত ভয়ঙ্কর ভাবে ফাটার কি দরকার ছিল। ড্যাম্প খেয়ে বাবুরাম সাপুড়ের সাপের মতো ফুস ও তো করলে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হোত। যত দোষ সব আমার ঘাড়েই পড়ে, ভাবছি এপিঠ-ওপিঠ করে নাম বদলে ‘নন্দ ঘোষ’ হয়ে যাব।   

Unrecorded Music: A Story of Friends, Faith, and Feedback

हिंदी अनुवाद

I

I can’t quite recall the year—perhaps sometime around 1987. After joining Khairagarh University, my Kolkata address was almost always the same: Didibhai and Dadabhai’s home at 7C Bondel Road. But the true battleground of my musical life lay across the small park at Ballygunge Fari, 91/2B Bondel Road—at Jon Barlow’s place. That’s where most of the musical skirmishes, friendly duels, and nocturnal bouts of brilliance took place.

Often, I stayed on the other side of the park, but my sitar remained faithfully with Jon. His house was the perfect retreat for riyaz and rumination—thinking, analyzing, sometimes arguing aloud, sometimes lost in quiet contemplation. The air there was thick with music and mischief, and the evenings often turned a shade more philosophical with a glass of Campari and Bablu, Jon’s master-chef, serving his mouth-watering fried chicken.

Nothing was ever recorded, of course, but we generated thought-waves of music worth a million dollar—if traded on the stock exchange of art! My naturally driven musical philosophy, Jon’s sharp logic, our laughter and our debates—they could travel from the floor of the Atlantic to the ceiling of imagination. Jon, in his lungi and banyan, and I, in my casuals, could push a discussion to the very edge of madness, discovering new theories and fresh philosophies!

But alas, all of it lies buried now—unwritten, undocumented, unclaimed by history.

II

Today’s story, however, is not about Jon. It is about something that has long simmered beneath the surface—why musicians, more often than not, fail to support one another. It’s a thought we rarely bring to the public stage, though it lingers behind every curtain of our musical world.

I had come to Calcutta for a concert. Though I had played many times before, this one carried a strange weight. I knew that some of the city’s finest and most discerning musicians would be in the audience, and that awareness tightened every muscle in me. I was practicing at Jon’s place, trying to iron out every imperfection, when he quietly observed my state.

After watching me pace and replay phrases for what must have been five hours, Jon finally said, with his characteristic calm: “Sanjoy, will you die if you don’t play well?” It landed like a small joke at first—but it pierced through the anxiety like light breaking into a dense fog. Something in me loosened. That single sentence, delivered with such simple honesty, worked like magic. You’ll see how.

When I reached the auditorium that evening, the crowd was already gathering. From a distance, I noticed Jon walking in with a bundle of long black wires in his hand. Only later did I learn that he had brought his SONY TCD-D10 DAT recorder—a rare piece of technology at that time—to record the concert.

As the curtain rose, my eyes scanned the audience. There they were—Pt. Kumar Prasad Mukherji, Pt. Buddhadev Dasgupta, and several other stalwarts, faces glowing in the soft auditorium light. The hall was packed to the last row. And then, quite unexpectedly, all the tension dissolved. Jon’s words had done their work.

I began with alap-jod-jhala in Raga Hameer. The sound felt alive, unhurried, transparent. Then came the Jhaptal and Drut Trital compositions in Shuddha Kalyan. The connection between performer and listener was palpable—like an invisible bridge of creation and response. I could hear gentle murmurs of appreciation, the rhythmic hand gestures, the occasional sigh of recognition. I was overflooded with listeners meeting me after the concert.

Next day I went to see Pt. Kumar Prasad. He said how happy he was, he was with all praises. Kumar Prasad affectionately handed me his book Kudrat Rang-Birangi, and wrote a long note of appreciation, especially about the alap in Hameer. It felt less like praise and more like a quiet acknowledgement of an artistic conversation well concluded.

III

About three days before the concert, a new name began circulating—Vaidi. It was unfamiliar to me then. In those days, I was easily swayed by what I heard; my current skepticism and love for cross-verification had not yet developed. The word was that this Vaidi had quickly risen to prominence—a rare combination of musician and MBA—someone who had become influential in decision-making circles. Naturally, the younger musicians had started orbiting around this new power source.

I should pause here to say that Vaidi, who later became a key figure at RPG-HMV, and I eventually became good friends, spending long hours discussing music and ideas. But this story is really about how that friendship began—and the thought it eventually led me to.

When I learned that Jon and Vaidi were already good friends, I felt reassured. I requested Jon to invite him to my upcoming concert, and he readily agreed. I didn’t know Vaidi personally, so I couldn’t recognize him in the audience. Later, Jon told me that Vaidi had indeed come—slipped quietly into the last row just as my recital began, listened till the end, and left immediately afterward, perhaps to avoid the usual post-concert pleasantries. My little plan to connect had failed, at least for the moment.

Still, I asked Jon to speak to him and convey my wish to meet. Vaidi agreed and sent word that he had liked my recital.

A few evenings later, Jon and I visited his Lake Gardens home. Over tea, we discussed music. As expected, Vaidi first offered the customary compliment: “You played very well.” I smiled and asked, “Could you tell me—critically—what you really thought of it?”

It’s an old truth in our fraternity: every performance is praised in the musician’s presence and dissected in their absence. But to his credit, Vaidi accepted my invitation for honesty. He said two things that stayed with me:
(1) “There are star qualities in your music.”
(2) “You should pay more attention to the expression in your fast passages.”

It was a fair, thoughtful comment. I then asked if he could sing for me sometime. Without hesitation, he said, “Of course. I’ll let Jon know.”

Three days later, Jon and I went to his house again. We were a little late, and as we entered, the room was already alive with sound—two Miraj tanpuras resonating deeply, and a tabla player accompanying him with finesse. Vaidi was singing beautifully, with confidence and polish. I enjoyed his performance immensely.

When he finished, I asked if he could sing a Carnatic piece. He did, and I noticed an even greater command in his rendering. “You’re a fantastic musician,” I told him sincerely. And then, echoing my earlier request, he asked for my honest opinion.

I looked at him for a moment and said, “I’m surprised that someone like you would ask me that question. I never expected it.”

He smiled. “Why not?”

“Because,” I replied, “I consider you one of the few truly intelligent musicians around.”

He raised an eyebrow. “So?”

I continued, “From your singing, it’s clear you follow the Agra style.”
He nodded. “Correct.”
“You admire Fayyaz Khan Saheb’s music.”
“Yes.”
“And you consider Ustad Fayyaz Khan vastly superior to yourself.”
He laughed. “There’s no comparison—I’m nothing before the Himalayan Khan Saheb.”
“You’ve listened to hundreds of hours of his recordings.”
“Hundreds, yes.”
“So you also know which recordings show him at his best—and which, perhaps, a little less so.”
“Of course, I do.”

“Then, Vaidi,” I said gently, “when you can recognize where he was not at his best—he, whom you consider far beyond yourself—can’t you recognize where you can improve? Record yourself, listen, and refine.”

He was silent for a while, and then said, half-smiling, “But you asked me the same question!”

“Yes,” I admitted, “I did. But only because I wanted to come closer to you. The points you made about my recital—I had long known them. What I really wanted was a conversation, not an evaluation.”

That exchange broke the ice between us. From that day, we became friends—bound not only by music, but by the rare honesty that true dialogue demands.

By- Sanjoy Bandopadhyay, 08 October, 2025 | Bangalore

Hindi translation

अनरिकॉर्डेड म्यूज़िक: दोस्तों, भरोसे और प्रतिक्रिया की कहानी

I
साल याद नहीं आता—शायद 1987 के आस-पास की बात होगी। खैरागढ़ विश्वविद्यालय से जुड़ने के बाद, मेरा कोलकाता का पता लगभग हमेशा एक ही रहता था—दीदीभाई और दादाभाई का घर, 7C बॉन्डेल रोड। लेकिन मेरे संगीत जीवन का असली रणक्षेत्र उससे थोड़ी दूरी पर, बालीगंज फाड़ी के छोटे पार्क के उस पार था—जॉन बार्लो के घर में। वहीं होती थीं हमारी संगीत की झड़पें, दोस्ताना मुकाबले, और रात के सन्नाटे में खिलते हुए राग के फव्वारे।

अक्सर मैं पार्क के उस पार ठहरता था, पर मेरी सितार हमेशा जॉन के पास रहती। उसका घर मेरे लिए साधना और सोच-विचार का आश्रय बन गया था—जहाँ कभी बहसें होतीं, कभी मौन मनन। वहाँ की हवा संगीत और शरारत दोनों से भरी रहती थी। शामें अकसर और दार्शनिक हो उठतीं—एक गिलास कैम्पारी और बाबलू, जॉन का शेफ, के बनाए लाजवाब फ्राइड चिकन के साथ।

बेशक, वहाँ कुछ भी रिकॉर्ड नहीं हुआ—लेकिन जो संगीत हमने गढ़ा, वह कला के शेयर बाज़ार में करोड़ों का होता! मेरा सहज संगीत-दर्शन, जॉन की तीखी तर्कशीलता, हमारी हँसी, हमारी बहसें—वे विचार और ध्वनियाँ अटलांटिक की गहराई से कल्पना के आकाश तक उड़ जातीं। जॉन अपने लुंगी-बनियान में, और मैं अपने साधारण कपड़ों में—हम चर्चा को पागलपन की हद तक ले जाते, और वहीं से नई संगीत-सिद्धांतों और दर्शन की अंकुर फूटते!

लेकिन अफसोस—वो सब अब कहीं दबा पड़ा है—न लिखा गया, न दर्ज हुआ, न इतिहास ने अपना माना।


II
आज की कहानी, हालांकि, जॉन के बारे में नहीं है। यह उस बात के बारे में है जो वर्षों से भीतर सुलगती रही—क्यों संगीतकार अक्सर एक-दूसरे का साथ नहीं देते। यह वह विचार है जो मंच पर शायद ही कभी बोला जाता है, पर हमारे संगीत जगत के हर परदे के पीछे मौजूद रहता है।

मैं कोलकाता आया था एक कंसर्ट के लिए। पहले भी कई बार बजा था, पर इस बार कुछ अलग था—एक अजीब-सी जिम्मेदारी महसूस हो रही थी। मुझे पता था कि शहर के कुछ श्रेष्ठ और संवेदनशील संगीतज्ञ श्रोताओं में होंगे, और इस सोच ने मेरे भीतर तनाव भर दिया। मैं जॉन के घर अभ्यास कर रहा था, हर खामी को ठीक करने की कोशिश में, जब उसने धीरे से मेरी हालत देखी।

करीब पाँच घंटे तक मुझे बार-बार वही टुकड़ा दोहराते देखकर, जॉन ने शांति से कहा—
“संजॉय, अगर तुम अच्छा नहीं बजाओगे तो मर जाओगे क्या?”

पहले तो यह मज़ाक-सा लगा, लेकिन उसने मेरी घबराहट को ऐसे काटा जैसे घने कोहरे में धूप उतर आए। मेरे भीतर कुछ ढीला पड़ा। वह एक वाक्य जादू की तरह काम कर गया।

शाम को जब मैं सभागार पहुँचा, तो दर्शक पहले ही इकट्ठे होने लगे थे। दूर से देखा—जॉन लंबी काली तारों का पुलिंदा लिए अंदर जा रहा था। बाद में पता चला कि वह अपना SONY TCD-D10 DAT रिकॉर्डर लाया था—उस समय का दुर्लभ यंत्र—पूरा कार्यक्रम रिकॉर्ड करने के लिए।

पर्दा उठा। मैंने दर्शकों में नज़र दौड़ाई—पं. कुमार प्रसाद मुखर्जी, पं. बुद्धदेव दासगुप्ता, और कई अन्य दिग्गज—सभी परिचित चेहरे, सभागार की हल्की रोशनी में दमकते हुए। और तभी, जैसे कोई बोझ उतर गया। जॉन के शब्दों ने अपना असर दिखा दिया था।

मैंने राग हमीर में आलाप-ज़ोड़-झाला से आरंभ किया। स्वर जीवंत थे, सहज और पारदर्शी। फिर शुद्ध कल्याण में झपताल और द्रुत त्रिताल की बंदिशें आईं। कलाकार और श्रोता के बीच का सेतु सजीव हो उठा—सृजन और प्रतिक्रिया का एक अदृश्य पुल। धीमे स्वर में “वाह” की ध्वनियाँ, ताल मिलाते हाथ, पहचान की आहें—सब सुनाई दे रहे थे। कार्यक्रम के बाद श्रोता उमड़ पड़े।

अगले दिन मैं पं. कुमार प्रसाद से मिलने गया। वे प्रसन्न थे, बोले बहुत अच्छा बजाया। स्नेहपूर्वक उन्होंने अपनी पुस्तक कुदरत रंग-बिरंगी दी, और उसमें लम्बा नोट लिखा—विशेषकर हमीर के आलाप की प्रशंसा में। वह शब्द प्रशंसा कम, किसी कलात्मक संवाद के समापन जैसे थे।


III
कंसर्ट से लगभग तीन दिन पहले एक नया नाम सुनाई देने लगा—वैदी। तब यह नाम मेरे लिए अपरिचित था। उन दिनों मैं दूसरों की बातों पर जल्दी विश्वास कर लेता था—जाँचने की आदत अभी विकसित नहीं हुई थी। चर्चा थी कि यह वैदी अचानक चर्चित हो गया है—संगीत और प्रबंधन, दोनों में निपुण—और अब निर्णय-निर्माताओं के घेरे में प्रभावशाली बन गया है। स्वाभाविक था कि युवा संगीतज्ञ उसके इर्द-गिर्द घूमने लगे।

यहाँ रुक कर कहना चाहूँगा कि वही वैदी आगे चलकर RPG-HMV में महत्वपूर्ण पद पर पहुँचा, और हम अच्छे मित्र बने—घंटों संगीत और विचारों पर चर्चा करते रहे। पर यह कहानी उस मित्रता की शुरुआत और उसके अर्थ की है।

जब पता चला कि जॉन और वैदी पहले से मित्र हैं, तो मुझे संतोष हुआ। मैंने जॉन से कहा कि उसे मेरे कंसर्ट में बुलाए, और उसने तुरंत हामी भर दी। मैं वैदी को जानता नहीं था, इसलिए पहचान नहीं सका कि वह आया या नहीं। बाद में जॉन ने बताया—वह आया था, चुपचाप आखिरी पंक्ति में बैठा, पूरा सुना, और अंत में बिना मिले चला गया। मेरा जुड़ने का छोटा-सा प्रयास फिलहाल विफल रहा।

फिर भी, मैंने जॉन से कहा कि उससे मेरी ओर से बात करे। वैदी ने संदेश भेजा कि उसे मेरा कार्यक्रम पसंद आया।

कुछ दिन बाद, हम दोनों उसके लेक गार्डन्स वाले घर गए। चाय पर संगीत की बातें हुईं। वैदी ने औपचारिक प्रशंसा की—“आपने बहुत अच्छा बजाया।”
मैं मुस्कराया और कहा—“सच-सच बताइए, आलोचनात्मक दृष्टि से—आपको कैसा लगा?”

हमारे संगीत समाज का एक पुराना सच है—सामने प्रशंसा, पीछे समीक्षा। पर वैदी ने ईमानदारी से कहा—
(1) “आपके संगीत में सितारों जैसी चमक है।”
(2) “आपको तेज़ हिस्सों में भावाभिव्यक्ति पर और ध्यान देना चाहिए।”

यह एक निष्पक्ष और विचारशील टिप्पणी थी। मैंने पूछा—“क्या कभी आप मुझे अपना गायन सुना सकते हैं?”
वह बोला—“ज़रूर, जॉन को बता दूँगा।”

तीन दिन बाद हम फिर उसके घर पहुँचे। थोड़ी देर हो चुकी थी। कमरे में दो मिराज तानपुरे गूँज रहे थे, साथ में तबला। वैदी गा रहा था—सुंदर, आत्मविश्वास से भरा, परिष्कृत। मैंने गहराई से सुना, आनंद लिया।

समाप्ति पर मैंने कहा—“क्या आप एक कर्नाटक रचना गा सकते हैं?”
वह गाने लगा—और मैंने देखा कि वहाँ उसकी पकड़ और भी प्रखर थी। मैंने कहा—“आप अद्भुत गायक हैं।”
वह मुस्कराया और बोला—“अब आप बताइए—सच में क्या सोचते हैं?”

मैंने क्षण भर देखा और कहा—“मुझे आश्चर्य है कि आप जैसे व्यक्ति मुझसे यह पूछ रहे हैं।”
वह हँसा—“क्यों?”
मैं बोला—“क्योंकि मैं आपको उन थोड़े-से संगीतज्ञों में मानता हूँ जो सचमुच बुद्धिमान हैं।”

वह हल्का झुका—“तो?”
मैंने कहा—“आपका गायन साफ बताता है कि आप आगरा घराने से हैं।”
वह बोला—“सही।”
“आप फ़ैयाज़ ख़ाँ साहब के प्रशंसक हैं।”
“हाँ।”
“और आप मानते हैं कि ख़ाँ साहब आपसे कहीं ऊँचे हैं।”
वह हँसा—“उनसे तुलना ही नहीं—मैं तो कुछ भी नहीं।”
“आपने उनके सैकड़ों घंटे सुने हैं।”
“हाँ, सैकड़ों।”
“तो आप जानते हैं कि उनके कौन-से रिकॉर्डिंग सर्वश्रेष्ठ हैं, और कौन-से थोड़े कमजोर।”
“बिलकुल।”
“तो फिर वैदी,” मैंने कोमल स्वर में कहा, “जब आप उनके श्रेष्ठ और कम-श्रेष्ठ क्षणों को पहचान सकते हैं—जो आपके लिए देवतुल्य हैं—तो क्या आप अपने भीतर के सुधार को नहीं पहचान सकते? खुद को रिकॉर्ड कीजिए, सुनिए, और निखारिए।”

वह कुछ देर मौन रहा, फिर मुस्कराया—“पर यही तो प्रश्न आपने मुझसे किया था!”
मैं हँसा—“हाँ, किया था। पर इसलिए नहीं कि मुझे उत्तर चाहिए था—बल्कि इसलिए कि मैं आपके करीब आना चाहता था। जो बातें आपने मेरे बजाने के बारे में कहीं, वे मैं पहले से जानता था। मैं मूल्यांकन नहीं, संवाद चाहता था।”

वह क्षण हमारे बीच की दीवारें तोड़ गया। उस दिन से हम मित्र बने—संगीत से जुड़े, पर उससे भी गहरे—सच्चे संवाद की ईमानदारी से।