দুম করে একটা বিশাল আওয়াজ! চোখে ধুতরো ফুল দেখছি, কানে কিচ্ছু শুনতে পাচ্ছিনা, হাতের চামড়া ফেটে গ্যাছে—! পাপা, মানে আমার বাবা, পুজো করছিলেন, এক লাফে মেঝের আসন থেকে সোজা বারান্দায়, “কি হল, কি হল?”। বললেন, “এতো বড় আওয়াজ? আমি তো কানে কিছু শুনতে পাচ্ছিনা, —“। তখনই নজর গেল বিছানার ওপর, ওখানে আমার বছর খানেকের ছোট্ট মেয়ে শোয়া। আমি কানে শুনতে পাচ্ছিনা, পাপা চেঁচামেচি করছে – সেও শুনছেনা, তাহলে মিমের কি হল? মিম আমার ছোট্ট মেয়ে; কানে কালা হয়ে গেল না তো! ও শুয়ে আছে কিন্তু তেমন কোনও আওয়াজ করছেনা। ডাকলাম, তেমন কোনও সাড়াও দিচ্ছেনা। আমরা সবাইই খুব ভয় পেয়ে গেলাম।

ঘটনাটা হয়েছিল আমার হঠাৎ মনে জেগে ওঠা বীর হবার আকাঙ্ক্ষায়। সেদিন দীপাবলী। আমাদের তিনতলার বারান্দায় তখনও গ্রিল ওপর অবধি ওঠেনি, ওটা উঠেছিল বেশ কয়েক বছর পর, সেও এক বিরাট ঘটনা। আমার ছেলের হনুমান বা বেড়াল ইন্সপায়ার্ড চেষ্টা আর ন-বছরের মিমের ভাইকে বাঁচিয়ে নেওয়া, আর নিচে জয়সওয়ালজী পরিবার মোটা বেডকভার নিয়ে দাঁড়ানো, লাফ দিলে ধরবে বলে। এই গল্প অন্য একদিন হবে।

বোম জ্বালানোর নানা রকম প্রসেস আছে। প্রথম হচ্ছে, দূর থেকে আগুন না ধরিয়েই তিনবার দৌড়ে পালিয়ে সাকসেসফুল হওয়ার চেস্টা বা সলতের ওপর কাগজ লাগিয়ে ভয়ে ভয়ে জ্বালান, আর তৃতীয়টি হচ্ছে —
আবার আমার বীর হবার কথায় আসি। দীপাবলীর দিন – চার-দিকে বাজি ফাটছে। আমার গিন্নির বাজি ফাটানোর খুব শখ, বিশেষ করে শব্দ-বাজি। বেশ কয়েকটা বড় বড় চকোলেট বোম কিনেছিলাম। হাতে ধরে বোমে আগুন ধরিয়ে না ফাটাতে পারলে তো ব্যাপারটা জমলই না। বোম জ্বালানোর নানা রকম প্রসেস আছে, আপনারা সবাই জানেন। প্রথম হচ্ছে, দূর থেকে আগুন না ধরিয়েই তিনবার দৌড়ে পালিয়ে সাকসেসফুল হওয়ার চেস্টা বা সলতের ওপর কাগজ লাগিয়ে ভয়ে ভয়ে জ্বালান, আর তৃতীয়টি হচ্ছে বীরের মতো হাতে ধরে জ্বলানো – তারপর সলতে তে আগুন লাগলে অনায়াসে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া। ওই শেষেরটা করতে গিয়েই আমার যত বিপত্তি। সলতে আগুন লাগতেই ঝপ করে জ্বলে গিয়ে আমার হাতেই ফেটে গেল। বাকি তো আগেই বলেছি।
সে রাত্রে আর হলোনা, পরের দিন পৌঁছুলাম আমাদের ডাক্তার মিশ্রজীর চেম্বার। সে যাত্রা আমরা সবাই-ই মোটামুটি বেঁচে গেলাম, মিম তো পরের দিনই ফিট, আমার হাত সারতে সপ্তাহ খানেক সময় নাগল। বাকি, শুধু পাপারই মনে হল যে আমার বাজির আওয়াজেই ওনার কানটা বিগড়েছে। এটা কিছুতেই বোঝানো গেলনা যে ওটা সলতের দোষ, অত তাড়াতাড়ি বারুদে না পৌঁছুলেই হচ্ছিলনা? বোমটারই বা অত ভয়ঙ্কর ভাবে ফাটার কি দরকার ছিল। ড্যাম্প খেয়ে বাবুরাম সাপুড়ের সাপের মতো ফুস ও তো করলে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হোত। যত দোষ সব আমার ঘাড়েই পড়ে, ভাবছি এপিঠ-ওপিঠ করে নাম বদলে ‘নন্দ ঘোষ’ হয়ে যাব।