
১

মেজদি – আনুমানিক ১৯৬১

মাঝে ছোড়দি

সেজদি – আনুমানিক ১৯৬১
না না ও সব কথা বাড়িয়ে লাভ নেই, মেজদি সবচেয়ে বেশী ভালোবাসত সুজুকে আর রাতুকে। সেই হাজরার আশুতোষ থেকে যাদবপুর অবধি বাস ভাড়া বাঁচিয়ে সেই পয়সায় একটা রসগোল্লা মাটির খুঁড়িতে অনেক ভালোবেসে নিয়ে আসা| সে খুড়ি; সবাই-ই কিন্তু জানত সেটা কার জন্যে| সেই রসগোল্লা ছোট ছোট টুকরো করে মেজদি আসতে আসতে অনেক ভালবেসে খাওয়াত ছোট্ট বোন সুজুকে। সুজু আর মেজদির বয়সের ফারাক দু-দশকেরও বেশি। রাতুকে যে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসত সেটা সবাই জানে, ও নিয়ে কোনও বাক-বিতণ্ডার প্রয়োজন নেই|
আর একজন, সে ছিল ছোড়দি| আমার তো মনে হয় মেজদি-ছোড়দির যে ছোটবেলার অলিখিত গাঁট-বন্ধন ছিল সেটা সেজদির সাথে লড়ার জন্যে| মেজদি ছিল শীর্ণকায় আর সেজদি তুলনায় অনেকটাই বলশালী| 37/5 ইব্রাহিমপুর রোডের মেজ-খাট আর বড়-খাট এই কুরুক্ষেত্র ময়দানে চুল টানাটানি আর মারমারি হলে কে জিতবে? নিশ্চিত সেজদি| কিন্তু “হেয়ার মইধ্যে দুইখান কথা আসে।“ এর মধ্যে যদি, সূক্ষ্ম হলেও, কোনও প্রখর শক্তির প্রবেশ ঘটে তাহলে কি হবে? আরে না না কোনও আইনস্টাইনের থিওরি কষছিনা। ছোড়দিকে আপনারা চেনেন, চেনেন না তো? তাই যা বলছি স্পিকটি নট করে শুনুন। ছোড়দি জন্ম থেকেই অ্যাটম বোম! দেখতে সুন্দর, মাথায় ক্ষুরধার বুদ্ধি, আর আমার মতোই ফাঁকিবাজ। এরকম একটা সাপোর্ট থাকলে তো বিশ্বযুদ্ধও জেতা যায়, এই মেজ খাট আর বড় খাটের দুই বোনের মারামারি তো নস্যি। মেজদি প্রায় কোনও সময়েই বাহুযুদ্ধে পারত না, কিন্তু বাক যুদ্ধে? ছোড়দি যদিও খুব সহজে দিদিদের মারামারীর মধ্যে ঢুকতে চাইত না, কিন্তু মেজদি বেশী বিপাকে পড়েছে দেখলে আর থামতে পারত না। তখন খুব সাবধানে ছোট ছোট ফোড়ন মানে, ওই, শুনতে ছোট কিন্তু শক্তিশালী শব্দবানের প্রয়োগ করত। এতে কুরুক্ষেত্রের ওপর কখনও কখনও সন্ধ্যে নেমে আসত। অথবা, বেশি বাড়াবাড়ি দেখলে জ্যাঠাইমার কাছে ট্রাংককল চলে যেত; আর গরম খুনতি উঁচিয়ে জ্যাঠাইমার প্রবেশ ঘটলেই সব শান্ত!
