Bidyut was sad…!

First posted on March 5, 2013 by sitardivine

It was 05 March in the 2013. I took charge of the Head of the Department from Goutam Ghosh. Everyone present at that time in the department assembled on the occasion. After the ceremony was over I became busy with my work.. teaching a sarode student and also supporting a computer personnel who was trying to repair my computer ..  At one point I saw Bidyut [Dr. Bidyut Kanti Chaudhury, Assistant Professor]on the door. He wanted to come in. I noticed that he was slightly tensed.. He told me ‘Sanjoyda I feel so sad that I even could not know that you were taking the charge of the HoD!! I was busy in my classroom..’. I could clearly see that he was hurt.  I said that I was happy that he was busy in teaching.. it was what I wish to look all around… that the department is running nicely with full of academic activities and taking less care of such trivia like transfer of charges of a HoD.. I greeted him for his involvement in teaching.. He went back happy and after sometime he came back with a piece of paper in his hand.. Here is what he wrote;

সেতার, বেড়াল ও জেসপা

First posted on May 13, 2014 by sitardivine

তখন আমরা ২০ বিধান পল্লীর বাসাবাড়ীতে থাকি. ওখানে রেলগাড়ীর ডিব্বার মত সারি দেওয়া তিনটে ঘর ছিল, তারপর রান্নাঘর আর এছাড়া একটা ঘর একটু আলাদা, সেখানে আমি রেয়াজ করতাম| সেদিন পাপা বাড়িতে, আমিও সেতার নিয়ে মাঝের বড় ঘরে চলে এসেছি| পাপা খাটে শুয়ে আছেন আর আমি মেঝেতে বসে বাজাচ্ছি| সে সময় বেশ বেড়ালের উৎপাত ছিল, আর মনে হয় বেড়ালের পপুলেশনও বেশ বেশি ছিল| কারণ খুব স্পষ্ট| এখান আর অত ঘন ঘন বেড়াল চোখে পড়েনা| যদিও বেড়াল পরিসংখ্যান কোথাও তেমন করে দেখিনি, তবে এ কথা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে হলফ করে বলতে পারি| অন্য একটা সম্ভাব্য কারণ অবশ্য, বেড়াল সম্প্রদায়ের বুদ্ধি ক্রমশঃ কমে যাচ্ছে| এ সম্পর্কে বেড়ালবিদ পন্ডিতেরা আরও ভাল বলতে পারবেন| আমি যে কথা বলতে চাইছিলাম তা হচ্ছে মাছ, দুধ ইত্যাদি বেড়ালের জিভে না পৌঁছে যাতে আমাদের জিভ স্পর্শ করে তারই জন্য আমাদের জানালার শিক্গুলোতে লোহার তার লাগান হয়েছিল| খুব যে ঘন তা নয়, তবে সাধারণ বেড়ালের সাইজ থেকে বেশ ছোট|

আমার কোনদিন সেতারি হয়ে ওঠার ব্যাপারে পাপার প্রবল সন্দেহ ছিল| বলতেন, “এত নরম হাতে সেতার কি বাজবে, ডা-রাই বাজাতে পারিসনা|” এছাড়াও গান-বাজনার লাইনে এপাশ-ওপাশ থেকে গুঁতো খেয়ে গান-বাজনা পেশাদারী সম্পর্কে ওঁর অনেক বিপরীত বক্তব্য ছিল| তবে শেখাতে কার্পন্য করেননি| একটু এপাশ ওপাশ হলেই ভুল ধরিয়ে দিতেন|

সেদিন রেয়াজ করছি, বেশ মন দিয়েই বাজাচ্ছিলাম|সেতারে জোরে ঠোক মেরে রা-রা বাজাতে বেশ ভাল লাগত| মনের খুশিতে হঠাৎ মেরে দিলাম জোরসে ঠোক, তারপরেই ঘটে গেল সে ভীষণ ব্যাপার| দেখি, কিছু একটা সাদা লম্বাকার জিনিস পিঠে ধাক্কা দিয়ে, সেতারে ধাক্কা মেরে তীব্র গতিতে জানালার ফোকর দিয়ে ছিটকে বেরিয়ে গেল| তাকিয়ে দেখি তারের একটা ফোকড় বেশ কিছুটা বড় হয়ে গেছে আর তার চারদিকে সাদা লোম| পাপাও হঠাৎআওয়াজে ধড়মড়িয়ে উঠে বসলেন| সব কান্ড বুঝে চিৎকার করে উঠলেন, “দেখছিস তোর বাজনার বহর, বেড়াল কিভাবে ভয় পেয়ে পালাচ্ছে? বেড়ালের যদি এই হয় তাহলে মানুষের কি হবে ভাবতে পারছিস?” আমি কিছুটা মুষড়ে পড়লেও বাজনা থামালামনা|

এরপর বেশ কয়েক বছর কেটে গিয়েছে| আমি তখন লম্বা সময় ধরে রেয়াজ করি| নানা জায়গায় বাজাতেও শুরু করেছি| সে সময় কালীবাড়ী লেন-এ ওস্তাদজীর বাড়ির পরের গলিতেই একটা টিউশনি পেয়ে গেলাম| ছাত্রের নাম ‘দোলন’| সে আমার থেকে বয়সে অনেকটা বড় হলেও তা কখনও বুঝতে দেয়নি| ছাত্র-শিক্ষক সম্বন্ধের যথেষ্ঠ সম্মান করত| ওকে আমি বলতাম ‘ছাত্র বাবু’| সেই ছাত্র বাবুর একটা পেল্লাই সাইজের ডোবারমেন কুকুর ছিল| নাম ছিল ‘জেসপা’| দারুন স্মার্ট| একদিন শেখাতে  পৌঁচেছি, দেখি জেসপার মেজাজ খুব গরম| খুব জোরে চেঁচিয়ে চলেছে| অনেক চেষ্টা করেও তাকে শান্ত করা যাচ্ছেনা| ছাত্র বাবু, তার স্ত্রী, সবাই অনেক চষ্টা করে হাল ছেড়ে দিলেন| আমি ভাবলাম একটা পরীক্ষা করে দেখা যাক্| গুরুর নাম নিয়ে আমি সেতার হাতে তুলে হাল্কা করে আলাপ বাজাতে শুরু করলাম| অবাক কান্ড! কিছুক্ষনের মধ্যেই জেসপা-র চিৎকার কমে গেল, তারপর চুপ করে শুয়ে পড়ল| এ ত ম্যাজিক!! গুরুদের মুখরক্ষা হ’ল, অল্প হলেও আমার গুরুদের সেখান বিদ্যে কাজে লেগে গেল|

শোনা শুরু

First posted on May 13, 2014 by sitardivine

তখন আমি বেশ ছোট| অল্পদিনের মধ্যেই সব জামা-কাপড় কেমন যেন আঁটোসাঁটো হয়ে উঠত, জুতোর তো কথাই নেই| কাজেই, জুতো, পাতলুন, কামিজ সবই কেনা হোত দু-সাইজ বড় | দুর্গাপূজো এলেই এ-দোকান সে-দোকান, নানা রঙের জামা কাপড়ের ভীড়, আর তার মধ্যেই কয়েকটা পেয়ে যাওয়া, বেশ খুশী হতাম| পড়াশুনোর রোজকার চাপাচাপি থেকেও কিছুদিন রেহাই পেতাম| খুব ভালো লাগত প্যান্ডেলে-প্যান্ডেলে বাজতে থাকা মাইকের গান| তখন গ্রামোফোন এ গোল-গোল কালো চাকতি চালিয়ে গান বাজান হোত| ‘খোয়া খোয়া চাঁদ’, প্যার কিয়া তো ডরনা কেয়া, আই আই ইয়া করুঁ ম্যায় কেয়া সুকু সুকু’, আরও কত কি! বাড়ীতে এসব সুন্দর মিষ্টি গান শোনার ওপর কড়া সেন্সর ছিল|এসব নাকি খেলো গান, শুনলেই ছেলে বয়ে যাবে! জ্যাঠার বাড়িতে একটা ঢাউস রেডিওগ্রাম ছিল| সেখানে আটটা চাকতি চাপিয়ে দিলে একটার পর একটা বাজতে থাকত| সেখানে ফৈয়াঁজ খাঁন, আব্দুল করিম খাঁন, কেসরবাঈ, বড়ে গুলাম, ভীস্মদেব, তারাপদ বাবু, গওহরজান, জ্ঞান গোঁসাই, সুধীরলাল চলত|আমার কিন্তু ওই ‘খোয়া খোয়া চাঁদ’-ই বেশী ভাল লাগত|

আমরা তখন থাকি ৩৬বি বেচারাম চ্যাটার্জ্জী রোডের ভাড়াবাড়িতে তে| পারে সে বাড়ির নম্বর বদলে ২৮ হয়েছিল| বাড়ীতে একটা মাঝারি সাইজের মারফি রেডিও এল| কি যে আনন্দ হয়েছিল বলে বোঝান মুস্কিল| ভাবলাম এ বেশ ভাল হোল, মজা করে গান শোনা যাবে| কিন্তু পারে বুঝলাম ‘সে গুড়ে বালি’| সে কথাই বলছি শুনুন|

তখন সবে পূজো-প্যান্ডেলের ম্যারাপ বাঁধা শুরু হয়েছে|নতুন শরৎ এর রোদ্দুরে শুধু খুশী আর খুশী, ইস্কুল বন্ধ হবে হবে ভাব| সেদিন রবিবার, গেলাম পাশের বাড়ীর অমলদার কাছে| সেখানে গিয়ে দেখি সে মহানন্দে হিন্দি গান শুনছে, মানে ওই হিন্দী সিনেমার গান| আমি ত’ অবাক! অমলদাকে তো কেউ বকছেনা! আরও অবাক হলাম, রেডিওতে সেই মাইকের গানগুলোই বাজছে| আমার জানা স্টেশন থেকে এসব গান শোনা যেতনা| আমি তো শুধু সকালে আর রাতে ওই না-ভালো-লাগা গানবাজনা আর খবর শুনতে পেতাম| অমলদাকে সটান প্রশ্ন করলাম, “অমলদা, তুমি ওই মাইকের গানগুলো রেডিওতে কি করে শুনছ?” সোজা উত্তর এল, “আরে নতুন একটা স্টেশন হয়েছে ‘বিবিধ ভারতী’, সেখানেই শোনা যায়|” এটা বোধহয় ষাটের দশকের শুরুর দিকের কথা| দেখে আসলাম স্টেশন কি করে ধরা যায়| অমলদা বুঝিয়ে দিল, স্টেশন ধরার কাঁটা-টা এক্কেবাব্রে ডানদিকে নিয়ে গিয়ে অল্প-স্বল্প নাড়ালেই ‘বিবিধ ভারতী’|আমাকে আর পায় কে! আমি তো নাচতে নাচতে বাড়ি ফিরলাম|

সেসময় ‘বিবিধ ভারতী’ এখনকার মত সারাদিন ধরে চলতনা, তাই কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হোল| দুপুর একটা নাগাদ রেডিও অন করে কিছুক্ষণ খোঁজাখুজি করতেই আমার সাধের স্টেশন এর নাগাল পেয়ে গেলাম| সে কি আনন্দ! গানের পার গান চলতে লাগল| সে-সময় পিসি আমাদের সাথেই থাকত| হঠাৎ পিসির গলা কানে এল, “এসব কি লারেলাপ্পা শোনা হইতাসে?” রেডিওর আওয়াজ কিছুটা কমিয়ে দিয়ে কথাটা শুনিনি শুনিনি করে রইলাম| কিছুক্ষণ পার পিসির ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল, “পোলাডা এক্কেরে অপগন্ড হইসে| বাপে রবিশঙ্করের ছাত্র আর পোলায় শোনে লারেলাপ্পা| দেইখ্যা আয়, তর সোট ভাই কিটু, হেয়ায় ক্যামন মাথা নাড়াইয়া নাড়াইয়া আব্দুল করিম শোনে …|” এরপর আর রেডিও শোনা চলেনা, অতএব বন্ধ করতেই হোল|

তখন আমার সাইজ পাড়ার হুলো বেড়ালটার থেকে খুব একটা বড় ছিলনা| রেডিও রাখার পরেও টেবিল-এ যা জায়গা থাকত তাতে আমি বেশ আরাম করে আসন-কেটে বসে যেতে পারতাম| পিসির ওই বকাটা মন থেকে কিছুতেই যাচ্ছিলনা| ওই গান কিটু শোনে!! তাহলে আমাকেও চেচ্টা করে দেখতে হবে| দুপুর একটা থেকে দেড়টা রেডিওতে খেয়াল ইত্যাদি বাজান হোত| আমিও ওইসময় রেডিও তারস্বরে চালিয়ে টেবিলে বসে মাথা নাড়াতে শুরু করতাম| পিসি কাছাকাছি থাকলে মাথা নাড়ানর গতি তীব্রতর হোত| খুব চাইতাম যে পিসি দেখুক, কিন্তু দেখত বলে মানে হতনা| আমার বেশ কিছুদিন মাথা নাড়িয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাবার পর একদিন দুপুরে পিসি খেতে খেতে বলল, “ইবার ইটারে বাড়ির পোলা মনো হয়| কি যে ছাই-ছাতা শোনন শুরু করসিলি…”

শুরুতে ভালো না লাগলেও শেষমেষ রাগ-তালের নেশাটা লেগেই গেল|

ফিরে দেখা

First posted on May 5, 2014 by sitardivine

জমাটি লেখা পড়তে ভালোবাসি, কিন্তু হঠাৎ করে লিখতে বসে যাব কখনো ভাবিনি|আসল কথাটা বলি শুনুন, সে সব বলতে গেলে অনেক কথা এসে ভীড় করে| বেশ ক’বছর হোল আমাদের পাড়ার অনুষ্ঠানের স্মারিকায় আমার একটা লেখা ছেপেছিল| বিপদের শুরু সেখান থেকেই| সত্যিটা হচ্ছে, লেখাটা আমি লিখিইনি! অবাক হলেন? সে কথা না হয় পরে কখন খোলসা করে বুঝিয়ে বলব| কিন্তু ঘটনা যেটা ঘটল তা হোল সেটি পড়ে অনেকেই, বাংলায় যাকে বলে, ইম্প্রেসড হয়ে গেলেন| তখন থেকে অনেকেই বলছেন কিছু লেখা বাংলায় লিখে ফেলতে| আমি লিখতে চাইনা, হাতের লেখা দেখলে কাকেরাও লজ্জা পায়| আমি টাইপ করি| এতদিনে বাংলায় লেখার, থুড়ি, টাইপ করার একটা যুতসই ব্যবস্থা করা গেল| অতএব লেখা শুরু|
সময় ব্যাপারটা গোলমেলে, মনে হয় অনেকটাই ভাবনার সাথে জড়ান| বেশ কয়েক বছরের পুরানো ঘটনা কখনো মনে হয় ‘এই তো সেদিন’ আবার কখনও কতদিন আগের|কিছু থাকে ঝকঝকে আর কিছু কেমন যেন ধুলো পড়ে ধুলোটে| আমি গান-বাজনাতে বেঁচেছি, এতেই জেগেছি, স্বপ্নে মজা করে শুনেছি| সেতারকে ভালবাসার অনেক ‘ট্যাক্সো’ আছে; দিয়েছি| এনাকে বোঝা আর বাগে আনার মধ্যে বিস্তর দুরত্ব| যদি বা কোনক্রমে কথা শুনতে শুরু করেন তারপর তাকে দিয়ে গল্প বলানো বা ছবি আঁকান, সে’ত যেনতেন কাজ নয়| আমি ভাবছিলাম সে-সব কথাই কিছুটা আপনাদের সাথে ভাগাভাগি করব|
একটা ছোট্ট কথা বলে নিই| আমার চরিত্র চিরকালই কিছুটা বেয়াড়া ধরনের| ভক্তি-শ্রদ্ধা নিয়ে চিরকালই অভাব অনটন| সোজাসুজি মেনে নেওয়ার ক্ষমতাই ছিলনা, বোধহয় এটা কোন ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্ট| নিজের মত করে বুঝে নেবার একটা তীব্র প্রচেষ্টা, যাতে স্বাভাবিক কারণেই বয়স্কদের অসভ্য না ভাবার কোনো কারণ ছিলনা| কিন্তু কিচ্ছু অজানা কারণে এতসব অবগুণ থাকা সত্যেও সবাই সহ্য করতেন| একটা কারণ বোধহয় আমাকে বোঝাতে শেখাতে বড়দের তেমন কোন বেগ পেতে হতনা| ওস্তাদজী বলতেন, “ছোঁড়ার আর যাই থাক, না বোঝার ব্যামোটা নেই|”

ছায়াচিত্র : রাখী ব্যানার্জী০৭  মে ২০১৪

প্রণবদা ও পুলিশ

First posted on May 13, 2014 by sitardivine

আমদের গুরুভাই প্রনবদা সরকারী চাকরি করতেন, আমার সাথে খুব ভাব ছিল| উনি সরোদ বাজান| তখন উনি আফিস করতেন রাইটার্স বিল্ডিং এর পাঁচতলায়| আমি প্রায়ই কলেজ পালিয়ে ওঁর কাছে পৌঁছে যেতাম| তখন আমি বিদ্যাসাগর কলেজে ফিজিক্স নিয়ে যুদ্ধ করি|প্রণবদা আমার গান-বাজনার দুঃখ-কষ্টের ফিরিস্তি শুনতে শুনতে কখনই হাঁপিয়ে উঠতেননা| কত গৎ, কত রাগের আলোচনা যে রাইটার্সবিল্ডিং এ হয়েছে তার সাক্ষী প্রণবদার সেই টেবিল আর তার বাঁদিকের চেয়ারটি| ওস্তাদজীর কাছে তালীম, অন্য গাইয়ে বাজিয়েদের গান-বাজনা, এসব নিয়েই নানা প্রশ্ন আর তা নিয়ে, যাকে বলে, ফ্রিস্টাইল বাদানুবাদ| নিজেদের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরী আর তা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা তর্ক-বিতর্ক| আমাদের ওস্তাদজীর ছাত্র হওয়ার একটা স্পষ্ট অহঙ্কার ছিল| আমরা জানতাম যে আমরা যেমনটি খাস-তালীম পাচ্ছি তেমনটি দুর্লভ| আমরা জানি যে বাহার রাগের মন্দ্রতে কোমল ‘ণ’ লাগবে শুদ্ধ নয়| এ ধরনের খবর অন্য কোন বিশিষ্ট বাজিয়ের না জানা থাকার প্রমাণ পেলে বেশ খুশী হতাম| নানা সময়ে ওস্তাদজীর সাথে অন্য নামী শিল্পীর কথাবার্তার সময়ে কখনও কখনও কার্যকারণে উপস্থিত থেকেছি| মানে পড়ে একবার উনি ‘সৌরভ’ আফিসের দরজা থেকে বেরিয়ে চেঁচিয়ে বলছেন, “সুনিয়ে, বহার কে মন্দ্র মেঁ কমল নিষাদ হী লগত হ্যাঁয়|” অন্য ওস্তাদটি বললেন, “জী, রাধুদা|” আমার চব্বিশ ইঞ্চি বুক ফুলে আঠাশ হয়ে গেল| বা কখনও, “আপনি কি রবিশংকর ঝেড়ে গান শেখান নাকি? যোগ কবে থেকে শুধু কমল নি-র রাগ হয়ে গেল?” সামনের বিশিষ্ট মানুষটি নিরুত্তর!

এবার আসল কথায় ফিরে আসি|কলকাতা রেডিও-র রেকর্ডিং সেরে সেতার নিয়ে যখন রাস্তায় বেরুলাম তখন দুপুর একটা| রাইটার্স এর দিকে নিজের থেকেই পা-টা চলতে শুরু করলো, বলাই বাহুল্য, প্রণবদার টানে| রাইটার্সের সিকিউরিটি নিয়ে কড়াকড়ি সেসময়ও ছিল, কিন্তু ফাঁকি দেবার রাস্তাও বেশ আয়ত্তে এসে গিয়েছিল| আমি ডালহৌসির ধবধবে সাদা চার্চের উল্টোদিকের লোহার গেট দিয়ে বেশিরভাগ দিন সিকিউরিটির চোখ এড়িয়ে ফুরুৎ করে গলে যেতাম| কখনও যে ধরা পড়িনি তা নয়| কপালদোষে ধরা পড়ে গেলে কাছেই অন্য একটা গেট দিয়ে ঢুকে একটা বড় টেবিল এর সামনে পৌঁছে যেতে হোত| সেখানে বেশ কয়েকজন পুলিশ অফিসার থাকতেন| সেখানেই গেটপাস যোগাড় করা হোত| সেদিন ওই গেটে পাহাড়া হালকা ছিল|অতএব সেতার নিয়ে বিনা বাঁধায় ঢুকে গেলাম| কিছুটা এগিয়েই রাইটার্সের সাবেকি লিফট, লাইনে দাড়ালাম| লিফট ধীরে ধীরে নিচে নেমে এল, এরপর লিফটে ওঠার পালা| প্রায় চড়তেই যাব, হঠাৎ কোথা থেকে কে জানে এক রিভলবারধারী পুলিশ অফিসার আবির্ভূত হলেন| তিনি ত আমাকে দেখেই আটকে দিলেন, “আপনার গেটপাস?” আমি আর কি বলব, আমি ত গেটপাস বানাইনি| উনি বললেন, “আপনি আমার সাথে আসুন|” বুঝলাম গ্রেফতার হয়ে গেলাম| প্রণবদা তখনই কোন কারণে নিচে নেমেছিলেন, আমরা ওঁর চোখে পড়ে গেলাম| প্রণবদা প্রায় চিৎকার করতে করতে দৌড়ে এলেন, “What happened, what happened?” আমায় পুলিশে ধরেছে দেখে বোধকরি টেনসনে ওঁর মুখ দিয়ে ইংরেজী বেরিয়ে এল| উনি নিজের আই-কার্ড দেখিয়ে অনেক বোঝানর চেষ্টা করলেন যে আমি ওনার কাছেই যাচ্ছিলাম; কিন্তু ভবি ভোলবার নয়| পুলিশ অফিসারটি প্রণবদার কথায় কানই দিলেননা| প্রণবদা বুঝলেন যে, “বাত বিগড় গয়ী|” শেষমেষ কোন উপায় না দেখে উনি বললেন, “তাহলে আমিও আপনাদের সাথে আসতে চাই|” অফিসারটি আপত্তি করলেননা| আমি প্রথমে কেমন যেন ভয়ে ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিলাম, প্রণবদা সঙ্গে থাকায় বুকে কিছুটা বল পেলাম| লিফটটা ক্যাচর ক্যাচর আওয়াজ করতে করতে ধীরে ধীরে সবথেকে অপরের তলায় পৌঁছে গেল| আমরা সবাই চুপচাপ, কোন কথা নেই|

লিফট থেকে নেমে একটা বড় সবুজ দরজার সামনে আমাদের দাঁড় কারণ হ’ল| দেখলাম দরজায় একটা পেল্লাই সাইজের তালা ঝুলছে| অফিসারের পকেট থেকে চাবির গুচ্ছা বেরোল, ভাবলাম এই বুঝি জেলের দরজা| উনি তালা খুলে বললেন, “চলে আসুন|” ভেতরে ঢুকে লম্বা বারান্দা আর বাঁদিকে সুবিশাল সুসজ্জিত দেয়াল থেকে দেয়াল দামী কার্পেট এ মোড়া বসার ঘর| আরে, এ কোথায় এলাম! উনি জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি সত্যি সত্যি সেতার বাজাতে পারেন?” আমি বললাম, “আলবৎ পারি| বাজিয়ে শোনাব?” তারপর ওই পার্শিয়ান কার্পেটের ওপর সেতার খুলে বসে গেলাম| দেখি অফিসার সাহেব-ও দেরাজ খুলে কি যেন বের করার চেষ্টা করছেন| দেখলাম সেখান থেকে তামার বাঁয়া আর তবলা বেরুল আর তা কার্পেটের ওপর   স্থাপিত হ’ল| অফিসার সাহেব তবলা নিয়ে বসলেন, ওই ভীতিকর আগ্নেয়াস্ত্রটি কোমরবন্ধ থেকে আলাদা হয়ে কার্পেটে অবস্থিত হোল| আরে, ইনি তবলা বাজান! আমি তো অবাক, প্রণবদাও তথৈবচ| বাজনা শুরু হোল| দারুন সঙ্গত করলেন দীপকবাবু, যাকে বলে খুব ভালো| এটা একেবারে ভাবাই যাচ্ছিলনা| আমরা প্রায় ঘন্টাখানেক গান-বাজনা করলাম| দীপক রায় কেরামত খাঁ সাহেবের গান্ডাবন্ধ শাগীর্দ| ওনাদের বাড়িতে মসিদ খাঁ সাহেবের ও যাতায়াত ছিল| দীপকবাবু আমার বাজনা শুনে খুব খুশী হলেন, রাইটার্স থেকে বেরিয়ে আমাকে ট্যাক্সিও ধরিয়ে দিলেন| দীপকবাবুর রিভালবারের দিকে তাকিয়ে ট্যাক্সিওয়ালা আর ‘যাব না’ বলতে পারলনা|

ঔরঙ্গাবাদের ছাতে

First Posted on May 16, 2014 by sitardivine

তখন বোধ হয় ১৯৮৩ বা ৮৪ সন| অল ইন্ডিয়া রেডিও সেসময় সারা দেশ জুড়ে অনেক ‘চেইন প্রোগ্রাম’ করত| এই চেইন প্রোগ্রাম-এ সাধারনতঃ দুজন শিল্পী বেশ কয়েকটা রেডিও স্টেশনে যেতেন আর সেখানে নিমন্ত্রিত শ্রোতাদের সামনে অনুষ্ঠান ও ষ্টুডিও রেকর্ডিং করতেন| তবলা, সারেঙ্গী, তানপুরা ইত্যাদি বাজানোর জন্য আলাদা করে শিল্পীর ব্যবস্থা হোত| এসময়টা বোধ করি ৮০-র দশকের মাঝামাঝি হবে| এটা আমার দ্বিতীয় ‘রেডিও চেইন’, বেশ উত্তেজিত, চারটি রেডিও স্টেশনে পৌঁছে বাজাতে হবে; নাগপুর, জলগাঁও, ঔরঙ্গাবাদ ও পুণে| নাগপুর আর জলগাঁওতে চুটিয়ে বাজনা ও রেকর্ডিং হয়ে গেছে, এখন বাসে করে ঔরঙ্গাবাদ যাচ্ছি| আমার সাথে পণ্ডিত যশরাজজীর ছাত্র আহমেদাবাদের কৃষ্ণকান্ত পারিখও একসাথে সফর করছেন| উনি আগে সুখেন্দুবাবুর[1] কাছে গান শিখেছেন| এই চেইনে নিমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে ওঁর গান আমার বাজনা হচ্ছিল|

ঔরঙ্গাবাদে আমার কোন পরিচিত মানুষ ছিলনা| জলগাঁও থেকে বসে যেতে যেতে কৃষ্ণকান্তজী বললেন ওই শহরে ওঁর এক বিশেষ পরিচিত আছেন, ডাঃ ভবান মহাজন| খুব নাম করা সার্জন আর যশরাজজীর বিশেষ অন্তরঙ্গ বন্ধু| ওই ডাক্তারবাবুর কাছেই উনি প্রথম যেতে চান| আমি ভাবলাম, এ বেশ হ’ল| ঔরঙ্গাবাদ পৌঁছে সোজা ডাক্তারবাবুর বিশালাকায় বাড়ীতে আমরা সবাই গিয়ে হাজির হলাম| ওঁর সাথে পরিচয় হওয়ার পার বুঝলাম এতো একেবারে গানপাগল মানুষ| স্বাভাবিকভাবেই যশরাজজীর কথা বারবার এসে পড়ছিল| পন্ডিতজী এ বাড়িতে বহু গেয়েছেন, সে সব নানা ঘটনা| ওঠবার সময় ডাক্তারবাবুকে বললাম যে আমরা এখানে একদিন গান-বাজনা করলে কেমন হয়| উনি প্রস্তাবে খুশি হয়ে বললেন, “কিয়ুঁ নহীঁ? বিলকুল হো সকতা হ্যাঁয়|” কৃষ্ণকান্তজীর অনুরোধে উনি আমাদের জন্য হোটেল বক করে রেখেছিলেন, আমরা এখান থেকে সটান হোটেলে পৌঁছে গেলাম|

নাগপুর থেকে ঔরঙ্গাবাদ, এই কদিনের সফরে এক অদ্ভুত ঘটনা বহুবার ঘটেছে| এর কারণ বুঝে ওঠা বেশ মুস্কিল| কিছুদিন একসাথে কাটানর পর আমরা খেয়াল করলাম যে কৃষ্ণকান্তজী ভাবছেন আমি তা বাজিয়ে ফেলছি| আমি আর উনি অনেকটা সময় ই একসাথে কাটাতাম, যদিও হোটেল এ আলাদা আলাদা ঘরের ব্যবস্থা ছিল| ওঁর সাথে ছেলে নীরজও ছিল| নীরজ তখন তৈরি হচ্ছে, বেশ গায়, সেও যশরাজজীর কাছে তালিম নেয়| ধরুন সকালে বিলাসখানী বাজাচ্ছি, কৃষ্ণকান্তজী বলে উঠলেন, “আরে বিলাসখানী? বঢ়িয়া, ম্যায় সোচ হী রহা থা|” অথবা, “আরে কিতনা অচ্ছা মাধ্যম লগা, ম্যায় সোচ হী রহা থা কী অব মাধ্যম লগ যায়|” হয়তো সাথেই বলে উঠলেন, ” কেয়া অচ্ছা সাজ মিলা হ্যাঁয়| অলগ অলগ স্বর জান করকে মিলানা আপনে কহাঁ সে সিখা? হমারে গুরুজী ভী এইসা হী মিলাতে হ্যাঁয়|” বলাই বাহুল্য, কৃষ্ণকান্তজী সুন্দর সুরে গাইতেন আর সুরে সুরমণ্ডল মেলাতেন| সা, প, ম, বা গ জ্যান করে মেলান বা দুটি অথবা তিনটি স্বর কে সামনে রেখে কোথা থেকে শিখলাম বা কবে শুরু করলাম মনে নেই, তবে যন্ত্র মেলানর ব্যাপারে পাপা খুব খুঁতখুঁতে ছিলেন| পরে আমার গুরু পণ্ডিত বিমলেন্দু মুখার্জীর কাছেও অসাধারণ সব মেলানর রাস্তা শিখেছি|আর দারুন রাস্তা দেখিয়েছিলেন জগদীশজী[2]| সে ই হোক| আমাদের ঔরঙ্গাবাদ রেডিওর ষ্টুডিও রেকর্ডিং ও বিশেষ নিমন্ত্রিত শ্রোতাদের সামনে অনুষ্ঠান ভালোভাবে হয়ে গেল, এবার ডাক্তারবাবুর বাড়ির অনুষ্ঠান| বেশ মজায় দিন কাটছে| মাঝে টুক করে আমরা ইলোরা ঘুরে এসেছি|

সেদিন ডাক্তারবাবুর বাড়ি অনুষ্ঠান| রোদ পড়তেই হোটেল থেকে বেরিয়ে যথাস্থানে পৌঁছে গেলাম| গিয়ে দেখি ছাতে গান-বাজনার ব্যবস্থা হয়েছে| ড‌‍ঃ মহাজন বললেন নীরজ প্রথমে গাইবে, পারে আমি আর শেষে কৃষ্ণকান্তজীর গান হবে|

নীরজ পুরিয়া-কল্যাণ গাইল| অর ঘন্টাখানেক গাওয়ার পর আমার পালা| কি ইয়েন মানে হোল আমি দরবারী ধরলাম| যদিও রাগটা গভীর রাতের, কিন্তু মনের চাওয়ায় সায় দিয়ে মাঝ-সন্ধ্যেতেই দরবারী শুরু করে দিলাম| বেশ জমে উঠল আলাপ-জোড়| হাতের থেকে খুলে সামনে রাখা ঘড়ির দিকে চোখ পড়তেই মালুম হ’ল অনেক্ষণ বাজিয়ে ফেলেছি| ডাক্তারবাবু আর কৃষ্ণকান্তজী সামনেই বসে ছিলেন, বললাম, “জলদি খতম কার দেতা হুঁ|” ডাক্তারবাবু বললেন, “আজ সির্ফ আপকো হী সুনেঙ্গে| আপ আরামসে বজাইয়ে|” কৃষ্ণকান্তজীও বলে উঠলেন, “আপ বহুত অচ্ছা বজা রহেঁ হ্যাঁয়| আজ ম্যাঁয় নহীঁ গাউঙ্গা, আজ সির্ফ আপকো হী সুননা হ্যাঁয়| এরপর আমার বাজনা চলতে লাগল| আলাপ-জোড় বাজিয়ে ঝাঁপতালে গৎ ধরলাম তারপর আড়ানাতে দ্রুত| আড়ানার তান দেওয়া গৎ সবাই খুব হৈ-হৈ করে শুনলেন| ঝালা দিয়ে এই পর্ব শেষ হোল| তবলায় কে ছিলেন মানে নেই, তবে খুব ভালো বাজিয়েছিলেন| উনি ঔরঙ্গাবাদেরই তবলিয়া| আড়ানার পর কিছু একটা হালকা চলে বাজানর পার ভৈরবীর ফরমাইশ এলো| ভৈরবীতে বেশ কিছুটা আওচার করে আমার দাদাগুরু উস্তাদ মহম্মদ আমীর খাঁ সাহেবের একটা বিলম্বিত গত ধরলাম| চারিদিক নিস্তব্ধ, শুধু সেতারের আওয়াজ আর নিচুস্বরে তবলার ঠেকা চলছে| কিরকম একটা লীন হওয়া পরিবেশ| বাজনা শেষ হোল| কিন্তু কোনো হাততালি নেই! শ্রোতারা সব প্রস্তর মূর্তির মত স্থির হয়ে বসে আছেন; বসে আছেন তো বসেই আছেন! নড়াচড়ার লেশমাত্র নেই! আমি আস্তে আস্তে ওখানে বসেই সেতারে কাপড়ের কভার দুটো পরিয়ে নিলাম| কেউ তো দেখছি নড়ছেনই না! উঠে দাড়ালাম| এতে যেন সবাই সম্বিত ফিরে পেলেন, অল্প-অল্প করে নড়াচড়া শুরু হ’ল| অনেকেই কাছে এসে অভিবাদন করলেন আর ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেন ভালো লেগেছে কিন্তু তেমন কোনও কথা নয়| সবাই কেমন যেন চুপ করে থাকাটাই পছন্দ করছেন, আওয়াজ করে ভালো লাগার পারশটা যেন ভাঙতে চাইছেননা|প্রায় মৌন থেকেই ধীরে ধীরে সবাই বিদায় নিলেন| এ ঘটনা এখানে শেষ নয়|

ডাক্তারবাবু ওঁর শালাবাবুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, “ইনহোনে আপলোগোঁকো হোটেল পঁহুচা দেঙ্গে|” শালাবাবুর গাড়িতে যন্ত্রপাতি তোলা হোল, আমরা রওনা হলাম| পেছনের সাইট আমি আর কৃষ্ণকান্তজী, সামনে নীরজ আর গাড়ি চালাচ্ছেন শালাবাবু| আমরা অনুষ্ঠানের কথা আলোচনা করতে করতে চলতে লাগলাম| কিছুক্ষনের মধ্যেই হোটেল এসে গেল| আমরা বাজনাগুলো নামিয়ে শালাবাবুকে ধন্যবাদ দিয়ে হোটেলের গেটের দিকে পা বাড়ালাম| কৃষ্ণকান্তজী চোখে দেখতে পেতেননা, ওঁর সাথে ধীরে ধীরে হাঁটতে হোত| হোটেলের দরজায় পৌঁছুতে বেশ কিছুক্ষণ লাগল| ঢোকার সময় রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখি শালাবাবুর গাড়িতে তখন দাঁড়িয়ে| আরে, গাড়িটা খারাপ হয়ে গেল নাকি? নীরজকে বললাম, “আপ থোড়া পিতাজী কো লেকর চলিয়েঁ, ম্যায় দেখ কর আতা হুঁ, ক্যা হো গিয়া|গাড়ি তো খরাব নহীঁ হো গয়ী!” গাড়ির কাছে পৌঁছে জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখি শালাবাবু চুপচাপ স্টিয়ারিং ধরে বসে আছেন| জিজ্ঞেস করলাম,” গাড়ী মেঁ কুছ হো গিয়া ক্যায়া? সব ঠিক তো হ্যাঁয় না?” উনি আরও কিছুক্স্গান চুপ থেকে বললেন, “আপকা সিতার ইতনা অচ্ছা লগা, বতা নহীঁ সকতা| উসকা গুঁঞ্জ পুরা ভরা হুয়া হ্যাঁয়, একদমসে পিছা কর রহাঁ হ্যাঁয়| ভগবাণ আপকো সদা মদত করে, আপ খুব খুব অচ্ছা বজাতে চলে|” এর পর গাড়িটা হুস্ করে বেরিয়ে গেল|

[1] পণ্ডিত সুখেন্দু গোস্বামী

[2] প্রখ্যাত গাইয়ে পণ্ডিত জগদীশ প্রাসাদ

Posted in PerformancesZ-Spaceবাংলায় হিজিবিজি. Tags: . Bookmark the permalinkEdit

The Limping Beauty and the Challenges— Birth of Saptarishi and Peeyush Talas

Note: Please scroll down to read an approximate translation by Dr. Pragya Pyasi, Assistant Professor of Music, University of Hyderabad.

It was early 1995. We all were so much under the overwhelming influences of the four instrument-giants Ravi Shankar, Ali Akbar Khan, Vilayet Khan, and Nikhil Banerjee that our minds were kind of hypnotized state with their influences. The senior musicians, also my Ustadji, in those days knew that I was a kind of non-routine boy.

 In those days I was at Khairagarh, teaching at the University. I was scratching my heads, practicing day and night, and frantically trying to discover more playing spaces for non-routine musical imaginations. My sitar playing was going through a lot of challenges. It was not giving satisfaction. I wanted to reach new horizons but failing. 

I was also listening as much as I could. I was trying to identify the music stars’ performed elements and understand the inherent patterns. Suddenly it clicked that there may be some unexplored space in the tala area. 

In those days it was in active discussions whether a tala with fractional matra is good to be adapted in performances. Many musicians did not appreciate this. They thought these are limping talas. However, music pillars like Pt. Ravi Shankar, Ustd. Ali Akbar Khan never cared. These giants and later musicians freely played fractional matra tala-s. I started carefully listening to the recording of these music masters. This exercise helped me to discover that these musicians restricted their imaginations in tala-play to either whole matra talas or talas with a fraction of ½ matra. I found their recitals based on 5 ½, 7 ½, and 8 ½ matra talas. This immediately opened up the scope for more thoughts, some room to flow musical imaginations, and scope for further explorations.

Saptarishi Tala of 9 1/3 matras

Dr. Anil Beohar

I started thinking and immediately thought of other fractions like 1/3, ¼, 1/5, and so on.  I composed two talas; one in 9 1/3 matras and the other in 10 3/4 matras. After composing naming automatically comes as the next step. I discussed this with my musicologist friend Dr. Anil B. Beohar. Anil said that the 9 1/3 beat tala has 7 gurus and 7 akshar kAla in tisra jAti laghu. So he named it Saptarishi because of the multiple presences of the number 7 in the construction of the tala. I thought this a wonderful idea. I agreed to name this 9 1/3 beat tala as Saptarishi. The other tala was named on my father’s name and that became Peeyush tala of 10 ¾ matra.

Dhi- –   na- – | Dhi- –  Dhi- –  na- –  | Ti- –    na – –  | Titina   DhinaDhi  na|

X 2 0 3

Dhi- –

X

Note: As this is a tala that takes a fraction of 1/3 the notation has to be written showing three spaces for each matra for easier communication.

Peeyush Tala of 10 ¾ matra

Dhi  na | Dhi  Dhi  na  | Ti  na  | Dhina DhiDhi na-,Dhina DhiDhina |Dhi

X          2                           0             3                                                                X

Note: Please note that the 8th and the 9th matra is going in 2 times laya when the next matras are in 4 times laya.                                       

Sanjoy Bandopadhyay (sitar) and Abhijit Banerjee (tabla) at Indian International Centre New Delhi on 10 October 1995

I gave the first performance in the Saptarishi tala with my dear Abhijit Banerjee on the tabla. That was the autumn of 1995. Abhijit came to me after a concert with Pt. Ajay Chakraborty in Taj Festival in Agra. He came to my aunt’s B-382 CR Park residence. Abhijit took some rest and then we sat for practicing. I composed a gat in Rageshree based on Saptarishi tala. We prepared for the next evening’s concert. I played the Sapatarshi composition at the  India International Centre, New Delhi on 10 October 1995, the formal beginning of the journey of a new musical dimension. Here is a tiny excerpt from the concert.

Rageshree in 9 1/3 mantra Saptarishi Tala by Sanjoy Bandopadhyay (sitar). Abhijit Banerjee on Tabla.
Sanjoy Bandopadhyay with Pt. Birju Maharaj after Lucknow concert. Mukund Bhale on the right.

Later, I played this tala in other concerts. One of the important music programs was in Lucknow. It was organized by the UP Sangeet Natak Academy in Lucknow. I was privileged to have Pandit Birju Maharaj as a listener. Mukund Bhale gave me tabla support. Maharajji loved the recital a lot.

Earlier on the same day, we also recorded a piece based on Saptarishi tala in All India Radio, Lucknow. This was again full of excitement. We all know that Lucknow is the fort of Tabla playing. The radio station wanted some good tabla player from the city provides me tabla support. But I strongly urged and persuaded that Mukund should provide me tabla support. Lucknow is a city of reverence to any Hindustani Musician. That was the reason that I wished to record something special. I wished that I play a piece based on Saptarishi tala of 9 1/3 beats. I tried to convince the AIR Programme Executive that Mukund and I played several concerts and it will be good if the radio station permits me to opt for Mukund. At this, the tabla players around got upset and very angry. But finally, they accepted it. 

I recorded with Mukund in the presence of a good number of eminent tabla artists. I must thank all of them for their kindness and understanding.

खंड में सौन्दर्य सृजन- सप्तऋषि एवं पीयूष ताल

भावानुवाद : प्रज्ञा प्यासी

संगीत के क्षेत्र में समर्पित मेरे व्यक्तिगत जीवन के वे अध्याय जो मुझे आज भी निरंतर क्रियाशील रहकर नित्य नवीन अन्वेषण एवं सृजन के सोपानों की ओर प्रेरित करते हैं, उन पर , अपने शिष्यों, विद्यार्थियों, संगीत रसिकों , एवं समीक्षकों से चर्चा करने में,  मैं आज भी आनंद की  अनुभूति करता हूँ|
मेरे स्मृतिपटल में आज वर्ष 1995 के आसपास का कालखंड पुनः जीवंत हो रहा है, जब लगभग सम्पूर्ण विश्व में भारतीय संगीत के चार दिग्गज वादकों – पं. रवि शंकर, उ.अली अकबर खान , उ. विलायत खान एवं पं. निखिल बनर्जी के चमत्कारिक प्रभाव से दिव्य सम्मोहन छाया था | ऐसे समय में मेरे उस्ताद पंडित राधिका मोहन मित्रा समेत सभी वरिष्ठ संगीतज्ञ इस बात से भली भांति परिचित थे, कि परम्पराओं के प्रति निष्ठा रखने के पश्चात भी, पूर्व निर्मित राजपथ के अनुसरण मात्र से ही मैं संतुष्ट होने वाला नहीं हूँ| 
      उन दिनों मैं खैरागढ़ विश्वविद्यालय में कार्यरत  था| दिन रात अभ्यास और गहन चिंतन द्वारा मैं चेष्टा कर रहा था कि, निर्धारित एवं नियमित सांगीतिक  कल्पनाओं के अतिरिक्त भी नवीन आयामों की खोज की जाए। सितार वादन की दृष्टि से यह अत्यंत चुनौतीपूर्ण था और मैं इस स्थिति से कदापि संतुष्ट नहीं था| अपने वादन को एक नवीन क्षितिज तक पहुंचाने की मेरी  इच्छा निरंतर असफल हो रही थी। मैं अधिक से अधिक संगीत सुनकर  विशिष्ट संगीतज्ञों के प्रदर्शन में निहित श्रेष्ठ तत्वों एवं प्रतिमानों को भी समझने का प्रयास कर रहा था| इस समयांतराल में अचानक विचार आया कि ताल के क्षेत्र में कुछ नवाचारी संरचनागत सौंदर्य या नव सृजन की संभावना हो सकती है| 

उन दिनों संगीत जगत में यह विचारणीय प्रश्न भी चर्चा में था कि, “भिन्नात्मक” मात्राओं के तालों को प्रदर्शनों में व्यावहारिक रूप से प्रयोग किया जाये अथवा नहीं| जो संगीतज्ञ इसके पक्ष में नहीं थे, उनके विचार से ये लंगड़े ताल थे| हालाँकि पंडित रवि शंकर एवं उस्ताद अली अकबर खान जैसे संगीत स्तंभों ने इस बात की परवाह न करते हुए ना केवल उन्मुक्त रूप से भिन्नातमक तालों का वादन किया  वरन अन्य कलाकारों ने भी उनका अनुसरण करते हुए भिन्नात्मक तालों के प्रचार को गति प्रदान की| मैंने इन कलाकारों की रिकॉर्डिंग्स को ध्यान से सुनना आरम्भ किया, और इस निष्कर्ष पर पहुंचा कि कलाकारों ने अपनी कल्पना को या तो पूर्ण मात्रा वाले तालों या फिर आधी मात्रा के छंद तक ही सीमित रखा है| उनकी प्रस्तुतियों में 5 ½, 7 ½, एवं 8 ½ मात्रा के ताल ही शामिल थे| अंततः इस अनुसंधान ने सांगीतिक कल्पनाओं के विस्तार एवं सृजनात्मक चिंतन की असीम संभावनाओं  के द्वार खोल दिए| 

9 1/3 मात्रा का सप्तऋषि ताल

कुछ समय मंथन के पश्चात ही 1/3, ¼, 1/5 के छंदों  (फ्रैक्शन) की कल्पना  उभरने लगी और शीघ्र ही 9 1/3 एवं 10 ¾ मात्राओं के दो तालों का जन्म हुआ| तालों के सृजन के पश्चात नामांकन के लिए मैंने अपने सहकर्मी, संगीतशास्त्री डॉ. अनिल ब्योहार के साथ चर्चा की| उन्होंने बताया कि 9 1/3 मात्रा के ताल में सात गुरु एवं तिस्र जाति लघु में सात अक्षर काल हैं | अतः ताल निर्माण की प्रक्रिया में सात की संख्या का बारम्बार प्रयोग होने के कारण इस ताल का नामकरण उन्होंने “सप्त ऋषि ” किया| मैं उनके मत से प्रभावित हुआ और सप्तऋषि नाम के लिए अपनी सहमति जता दी| दूसरे ताल को मैंने अपने पिताजी को समर्पित किया और इस प्रकार 10 ¾ मात्रा का पीयूष ताल अस्तित्व में आया|

प्रथम औपचारिक प्रस्तुति 

10 अक्टूबर 1995 को इंडिया इंटरनेशनल सेंटर, नई दिल्ली में सप्तर्षि ताल की प्रस्तुति के साथ मेरी सांगीतिक यात्रा के नवीन आयाम का औपचारिक अनावरण हुआ। इस कार्यक्रम में मैंने सप्तर्षि ताल पर आधारित रागश्री में एक गत का वादन किया| तबले पर संगति हेतु इस प्रथम प्रदर्शन में मेरे प्रिय तबला वादक अभिजीत बनर्जी ने बखूबी मेरा साथ निभाया। 

इसके बाद मैंने इस ताल को अन्य संगीत कार्यक्रमों में भी बजाया। लखनऊ के एक महत्वपूर्ण कार्यक्रम का उल्लेख करना मुझे यहाँ उचित प्रतीत हो रहा है, जिसका आयोजन उत्तर प्रदेश संगीत नाटक अकादमी द्वारा किया गया था। इस कार्यक्रम में श्रोता के रूप में पंडित बिरजू महाराज की उपस्थिति एवं उनके द्वारा प्रशंसा पाना एक अविस्मरणीय अनुभूति थी । इस कार्क्रम में पंडित मुकुंद भाले ने तबला संगति प्रदान की। 

कार्यक्रम से पहले उसी दिन प्रातः, मुकुंद जी के साथ मैंने आकाशवाणी, लखनऊ में सप्तऋषि ताल पर आधारित एक अंश भी रिकॉर्ड किया था। हालाँकि इस रिकॉर्डिंग के लिए मुझे लखनऊ के अन्य तबला वादकों की नाराज़गी का सामना भी करना पड़ा| लखनऊ तबला वादकों का गढ़ है और आकाशवाणी के अधिकारी चाहते थे की शहर के तबला वादकों में से कोई मेरी संगत करे| मेरा आग्रह था कि मुकुंद जी हीमुझे तबला समर्थन प्रदान करें क्योंकि मैं 9 1/3 मात्रा  के सप्तऋषि ताल पर आधारित रचना की प्रस्तुति चाहता था। अंततः मुकुंद जी के साथ ही रिकॉर्डिंग संपन्न हुई और अन्य तबला वादकों का क्रोध भी किसी प्रकार शांत हुआ|

Anil Madhyam

Note: This was originally posted on January 5, 2012 by sitardivine

Sanjoyda talks about the birth of Anil-Madhyam. “It was coldish 26 December… six notes came to me whispering.. I started humming… immediately started to love them.  I called Dilip [Mukherjee] on his cell phone ‘Dilip, sandhyebelaa free aachho? Tumi ele aktu jantar niye bastaam’ [Dilip, are you free this evening? If you come then I would like to sit with my instrument]. Dilip readily agreed.

In the evening after playing a bit of Bihag I thought of the six notes.. I tuned my tarab strings and started strumming. Dilip immediately reacted.. “ Sanjoyda, sundar lagchhe to! Ki raag?” [Sanjoyda, this is sounding beautiful! What is the raga?]”

Sanjoyda chose to play Anil-Madhyam at the 01 January 2012 evening concert to celebrate the birth-centenary of Acharya Anil Roychaudhury. Listen how he introduced the raga. He spoke in Bengali. Here is what he said… 

Enjoy the rendering … 

 Raga details

  • Name of the raga: Anil-Madhyam
  • Conceptualized by: Pt. Sanjoy Bandopadhyay on 24 December 2011
  • First performed by Pt. Sanjoy Bandopadhyay on the sitar on 01 January 2012 in a concert organized by Vistar as a tribute to Acharya Anil Roychaudhury during his birth-cenetenary celebration.

Notation system
Shudh svaras in Caps: SRGMPDN
Vikrit svaras in smalls: r g m d n
Tar saptak : S’ R’ G’ M’ etc
Mandra saptak: N1 D1 P1 etc.

Raga: Anil-Madhyam

Arohan: S R g m P n S’

Avarohan: S’ n P m g R S

Pakad: R n1 S, RgPm

Important note focus: Tivra-m

Chalan:

  1. R n1 S g S, R g P m
  2. P1 n1 P1, m1 P1 S
  3. P1 n1 g R n1  m1 P1 S
  4. P1 n1 R, S g S, R n1 S, P1 m1
  5. n1 S R g m, S g R n1 P1
  6. S R g m P m
  7. g m P n g,  R g m R, S g S, n1 g R, S R g P m
  8. R n1 S R g m P n – P
  9. m P S’, R’ S’ n – P
  10. P n R’, P n g’ R’ S’
  11. R g m P n S’ R’ g’ R’ S’
  12. S’ n P m g R S

 

 

 

 

 

 

 

Ahiri Marwa and Pt. Buddhadev Dasgupta

Note: This was originally posted on March29, 2014.

On the day before yesterday [27 Mar 2014] at the ‘Vistar’ program Buddhada [Padmabhushan Pt. Buddhadev Dasgupta] suddenly asked me if I knew ‘Ahiri Marwa’ [আহীরী মারোয়া জানিস?]. I said, no, I did not learn any rag named ‘Ahiri Marwa’ [না শিখিনি]. Next evening when I came back home with Dilip [Dilip Mukherjee, a wonderful tabla player and an excellent human being] and went straight to my riyaz-room. Suddenly I remembered Buddhada saying “আহীরী মারোয়া জানিস?” I thought why not try mixing some components of ‘Ahir Bhairav’ [frankly I have not learned Ahiri, but had the opportunity to listen to this raga from Pt. Balaram Pathak many years back… But I don’t remember anything and was not in a mood to consult any book to find out the raga details] and went straight working on blending the components of D1nr component of ‘Ahir Bhairav’ and ‘Marwa’ in the ‘rGMD’ region and playing phrases skipping ‘n’. It gave me a good feel.. I thought why not record it? I grabbed an audio recorder and pressed the red button and here it is… Today, before putting the raga for your evaluation I searched the google with “Ahiri Marwa” and did not come with any result. I think this might be also named as ‘Komal Marwa’ too. Listen and comment if you have time… It remained to be asked to Buddhada how he asked me on ‘Ahiri Marwa’, did he listen to it anywhere or contemplating on composing such a raga. In any case, it was fun to blend these two ragas of completely different moods and almost opposite playing times.

A depiction of Ahiri Marwa is available in Pt. Sanjoy Bandopadhyay’s Music Album titled ‘rare Ragas on the Sitar’.

————————————————–

March 29, 2014

This was posted in Facebook. Here are some interesting comments…

Uma Shankar Sharma asks: What will be time to play this raga?

SB replies: This is a good question. Firstly I played this for fun and wanted to feel how the combination of these two ragas sounds. I don’t know if the raga has been already composed by somebody and so on. If you ask me, then I would tell you that, it all depends on how this raga will get expressed by the performer. If you take this as a ‘Mishra Raga’ then a musician can highlight either the Ahiri part ore the Marwa parts. If someone makes the ‘Ahiri’ effectively prominent then it should be played in the morning and vice-versa. I find the probable application of Komal-re very interesting as you have altogether different komal-re for these two component ragas. I hope you enjoyed raga textures…

Anindya Banerjee:  We have learnt Ahiri Bhatiyar from Khansahib, where there is little resemblance with Marwa and Ahiri

 Sanjoy Bandopadhyay @Anindya Banerjee The reason possibly is, Bhatiyar and Marwa have similarities. Does ‘Ahiri Bhariyar’ take both the Madhyamas? Here, I used only ‘Tivra m’ for ‘Ahiri Marwa’. I also proposed a name for the raga ‘Komal Marva’.

Tim Hoffman: Thanks for the info on a vital process such as has throughout history of Hindustani music given the world some of its most interesting modal forms.  [March 30, 2014 at 8:58am]

A sketch discovered after 45 years…

This was originally posted on August 7, 2012. Then my Mejdi was happy, glad and constantly putting her full energy to keep us all happier with her glowing presence. We are not ready to accept that not seeing is missing her! Since July 22 2019 the feel of her presence, in a sense, has been getting stronger! – Bublu, Gangtok | March 22, 2020

I was trying to understand how to digitize books, studying the DIY Book-Scanner that Google adopted for digitizing millions of books [DIY is the acronym for ‘Do It Yourself’]. I managed somehow to erect a home set-up. Yes, the book stand made of cardboard, one camera and so on. I was trying the software that I would use for digitizing.

I wanted to try the set-up and first laid my hand on a sitar-notebook, my first one that was mostly written by my Guru Pandit Radhika Mohan Maitra. I discovered a loose leaf inside the notebook. This was already brittle. There was grocery list on one side and the other side showed a pen-sketch. I got excited! Someone drew my sketch!!

I liked the pen-lines. A simple ball point pen was used. ‘Bublu’ was written on the work. ‘Bublu’ is one of my pet names. I was not sure about the artist and started conjecturing. The drawing gave me the impression that it was done when I was around twelve year old. I thought I recognized the handwriting, I thought it was Mejdi’s. The other possibility was Chhordi. I was not sure. But they did not remember anything! Finally, Chhordi came and saw the sketch and ascertained that it was Mejdi’s handwriting…

Mejdi, Sushanta Siromoni [2010]

Mejdi loved to sketch, when she was young, during her school and college days. She did not have any formal training. But, she saw her aunt [Pishi] at work, who was a serious artist. I am glad that at least one of Mejdi’s work-specimen got discovered by chance. She almost forgot that she used to sketch for the sheer love of it.. This piece of art has been waiting for 45 years to be get rediscovered..! Thanks to DIY project!!!